Breaking News

জুলুম-নিপীড়ন করে সরকারের শেষ রক্ষা হবে না — বাম গণতান্ত্রিক জোট

37697558_535389273545096_7898422742557392896_n

দুঃশাসন, জুলুম, দুর্নীতি, লুটপাট, পরিবারতন্ত্র রুখো আহ্বানে বাম গণতান্ত্রিক জোট আহুত দেশব্যাপী বিক্ষোভ সমাবেশ ২৪ জুলাই ২০১৮, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়াকে উপেক্ষা করে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ও জোট সমন্বয়ক সাইফুল হক জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় বিক্ষোভ কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন। সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, সিপিবি সাধারণ সম্পাদক মো. শাহ আলম, বাসদ (মার্কসবাদী) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শুভ্রাংশু চক্রবর্তী, বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রাজেকুজ্জামান রতন, ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন নান্নু, গণসংহতি আন্দোলনের রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য ফিরোজ আহমেদ ও সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের আহ্বায়ক হামিদুল হক। সমাবেশ পরিচালনা করেন সিপিবি’র প্রেসিডিয়াম সদস্য আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন।

সমাবেশে সাইফুল হক বলেন, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির প্রার্থী ও ভোটারবিহীন নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় টিকে থাকা বর্তমান সরকার সংবিধান স্বীকৃত জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকারসমূহ রুদ্ধ করে দমন-নিপীড়নের পথে জবরদস্তিমূলক ক্ষমতায় বসে আছে। জোর করে ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য অত্যাচার, নির্যাতন, হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলা, গ্রেফতার, রিমান্ডে শরীরিক-মানসিক নির্যাতন, অপহরণ, গুম-খুন ও বিচারবহির্ভুত হত্যাকান্ড সংঘটিত করছে। বিচার ব্যবস্থার উপর সরকার নিয়ন্ত্রণ ও কর্তৃত্ব কায়েম করেছে।

তিনি বলেন, নির্বাচনী ব্যবস্থাকে প্রহসনে পরিনত করা হয়েছে। আইনের শাসনকে বিদায় দেয়া হয়েছে। বিরোধী দল ও মতকে গায়ের জোরে দমন করা হচ্ছে। গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ ও ভীতি প্রদর্শনের অশুভ তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। শান্তিপূর্ণ সভা, সমাবেশ, মিছিল, মানববন্ধনেও বাধা প্রদান ও আক্রমন করা হচ্ছে। পুলিশের পাশাপাশি সরকার দলীয় ছাত্র সংগঠন-ছাত্রলীগকেও সন্ত্রাসী হামলায় ব্যবহার করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, মহাজোট সরকারের নজিরবিহীন দুর্নীতি আর দুঃশাসনে দেশের মানুষ আজ দিশেহারা। আগেকার সরকারগুলোর ধারাবাহিকতায় দলীয়করণ, জবরদখল, ব্যাংক ডাকাতি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে সীমাহীন চুরি, লুটপাট, অর্থপাচার এক ভয়ানক পর্যায়ে উপনীত হয়েছে। মেগা প্রকল্পে মেগা দুর্নীতি সাধারণ বিষয়ে পরিণত হয়েছে। চরম স্বেচ্ছাচারীতায় ব্যাংক ও আর্থিক খাতে নৈরাজ্য কায়েম হয়েছে।

তিনি বলেন, দেশের ধনকি শ্রেণীর দলসমূহের অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্রহীনতা রাষ্ট্র ও সমাজের উপর প্রসারিত করা হচ্ছে। তাদের দলের পারবিারকি নেতৃত্বকে জাতির উপর চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, জুলুম-নিপীড়ন করে সরকারের শেষ রক্ষা হবে না। দুঃশাসন, জুলুম উপেক্ষা করে জনগণ বিজয় ছিনিয়ে আনবেই। নেতৃবৃন্দ রাষ্ট্র ও সরকারের ফ্যাসিবাদী প্রবণতার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য দেশবাসীকে রাজপথে নেমে বাম গণতান্ত্রিক জোটের লড়াইয়ে শামিল হওয়ার আহ্বান জানান।

সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল শহরের বিভিন্ন পথ প্রদক্ষিণ করে।

সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত চট্টগ্রাম, খুলনা, বগুড়া, গাইবান্ধা, পাবনা, নোয়াখালী, পটুয়াখালী, নেত্রকোণা, নারায়ণগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন জেলা শহরে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

কর্মসূচি
ক) ৪ আগস্ট, ২০১৮ ভোটাধিকার নিশ্চিত করা এবং বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার আমূল সংস্কারের দাবিতে ঢাকায় মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হবে।
খ) আগামী ৭ আগস্ট ময়মনসিংহ, ১০ আগস্ট সিলেট, খুলনা, রংপুর ও ১১ আগস্ট চট্টগ্রাম, বরিশাল, রাজশাহীতে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। জোটের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এসব কর্মসূচিতে অংশ নেবেন।

Check Also

IMG_9772_LDM

বাম গণতান্ত্রিক জোটের আত্মপ্রকাশ – দেশ বাঁচানো, গণতন্ত্র বাঁচানোর ঘোষণা

পুরান পল্টনস্থ মৈত্রী মিলনায়তনে ১৮ জুলাই ২০১৮ এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে আট দলের সমন্বয়ে ‘বাম গণতান্ত্রিক …