Breaking News

বিপ্লব করতে হলে তিনটি শর্ত পূরণ করতে হবে – কমরেড মুবিনুল হায়দার চৌধুরী

Hyder vaiকমরেড সভাপতি এবং মঞ্চে উপবিষ্ট কমরেড এবং বন্ধুগণ, আজকে রুশ বিপ্লবের শতবার্ষিকী উপলক্ষে আমরা এখানে সমাবেত হয়েছি।

একটা দেশে বিপ্লব কীভাবে হবে এই প্রশ্নটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। সময় সংক্ষিপ্ত বলে আমি কেবল এই বিষয়টার উপর আলোচনা করতে চাই। সর্বহারার মহান নেতা কমরেড শিবদাস ঘোষের চিন্তার আলোকে আমি এই আলোচনাটি করছি।

আমরা যে দেশে আছি সেই দেশটা হলো একটি পুঁজিবাদী দেশ। দেশের সমস্ত কিছু পুঁজিবাদের নিয়মে চলছে। চলছে জবরদস্তি আর অন্যায় শাসন। আমরা যত গণতান্ত্রিক আন্দোলন এদেশের মাটিতে করতে চাই, তা যদি পুঁজিবাদ বিরোধী আন্দোলন না হয়, তবে আমরা অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছতে পারব না। ফলে কাঙ্খিত পরিবর্তনও আসবে না। কিন্তু আমরা যারা লড়াই করছি তারা সকলে, এ দেশটা যে পুঁজিবাদী, সে ব্যাপারে একমত নই। একারণে এখানে একটা গণআন্দোলন আমরা গড়ে তুলতে পারছি না। এতবড় সমাবেশ আমরা করতে পারি, কিন্তু ঐক্যবদ্ধভাবে গণআন্দোলন আমরা গড়ে তুলতে পারি না।

দেশের নানা সংকট নিয়ে আমাদের লড়তে হচ্ছে। এই লড়াইটাকে আমাদের এমন স্তরে তুলতে হবে, যখন আমরা একটা সত্যিকারের বিপ্লবী পরিবর্তন ঘটাতে পারব। এই বিপ্লবী পরিবর্তন ঘটাতে হলে তিনটি আবশ্যকীয় শর্ত আমাদের পূরণ করতে হবে। প্রথমত, একটি সঠিক আদর্শ ও রাজনীতির ভিত্তিতে একটি বিপ্লবী পার্টি আমাদের গড়ে তুলতে হবে। দ্বিতীয়ত, বাম-গণতান্ত্রিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করে সর্বোচ্চ বোঝাপড়া ও সর্বনিম্ন কর্মসূচির ভিত্তিতে একটা গণতান্ত্রিক আন্দোলন আমাদের করতে হবে। এটা হলো গণতান্ত্রিক আন্দোলনের পর্যায়। এই আন্দোলন করতে করতে সর্বহারা ও আধা-সর্বহারাদের নিয়ে গড়ে তুলতে হবে যুক্তফ্রন্ট। যাকে বলা হয় প্রলেতারিয়ান ইউনাইটেড ফ্রন্ট বা সর্বহারা যুক্তফ্রন্ট। তৃতীয়ত, সংযুক্ত ও সম্মিলিত লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে জনগণের নিজস্ব সংগ্রামের হাতিয়ার বা জনগণের নিজস্ব রাজনৈতিক শক্তির জন্ম দিতে হবে। এটা অনেকটা রাশিয়ায় যেমন সোভিয়েত গড়ে উঠেছিল, যেটি ছিল শ্রমিক-কৃষকের, তেমনভাবে জনগণের ঐক্যবদ্ধ শক্তি এদেশেও গড়ে তুলতে হবে। তারা এমনভাবে আন্দোলন পরিচালনা করার শক্তি অর্জন করবে যাতে কখনো এগুতে পারে, পিছুতে পারে। এই তিনটি প্রয়োজনীয় বিষয়কে সামনে রেখে যদি আমরা লড়াই করতে পারি, জনগণকে সংগঠিত করতে পারি, তবে এদেশের মাটিতে বিপ্লব অবশ্যম্ভাবীরূপে আসবে। এই পথেই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।

আরেকটি কথা বলি। বিপ্লব আর বিদ্রোহ-বিক্ষোভ এক জিনিস নয়। বিপ্লব হচ্ছে রাজনৈতিকভাবে সচেতন, সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য, সঠিক আদর্শ ও বিপ্লবী রাজনৈতিক লাইনের ভিত্তিতে জনগণের সংঘবদ্ধ, সচেতন ও সশস্ত্র গণঅভ্যুত্থান। এই শর্ত পূরণ করার জন্য বাংলাদেশের জনগণ যত এগিয়ে যাবেন ততই আমূল পরিবর্তনের সম্ভাবনা বাস্তব হয়ে দেখা দেবে। এর মাধ্যমে নভেম্বর বিপ্লবের সার্থকতা আমাদের জীবনে বর্তাবে। এ কথা বলে সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে শেষ করলাম।

নভেম্বর বিপ্লব দীর্ঘজীবী হোক।
সর্বহারা আন্তর্জাতিকতাবাদ দীর্ঘজীবী হোক।
দুনিয়ার মজদুর এক হও।

Check Also

44

সংখ্যালঘু নিপীড়ন — কাঁদছে মানবতা, জয়ী হচ্ছে শাসকেরা

একটু পেছনে তাকাই উত্তম বড়ুয়া নামে এক ব্যক্তির ফেসবুক একাউন্টে পবিত্র কাবা শরীফ অবমাননার ছবি …