Breaking News

মাদক বিরোধী অভিযানের নামে নির্বিচার হত্যাকান্ড বন্ধের দাবি জানিয়েছে বাসদ (মার্কসবাদী)

ক্রসফায়ার
কথিত মাদক বিরোধী অভিযানের নামে গত ১৫ দিন ধরে শতাধিক হত্যাকান্ডের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও উদ্বেগ জানিয়েছেন বাসদ (মার্কসবাদী) কেন্দ্রীয় কার্যপরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক কমরেড মুবিনুল হায়দার চৌধুরী। সংবাদপত্রে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, ‘আইন-আদালতের তোয়াক্কা না করে মাদক নির্মূল অভিযানের নামে সরকার নিজেই হত্যাকারীর ভূমিকায় অবতীর্ণ। এ অবৈধ রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস সংবিধান, গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। কথিত এ মাদকবিরোধী অভিযানের লক্ষ্য- সমাজ থেকে চিরতরে মাদকের নির্মূল নয়, বরং দুর্নীতি ও লুটপাটের ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত সরকারের ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনকে আড়াল করার আরেকটি অপচেষ্টা মাত্র। মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রক- সরকারের সাথে নানা পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট এমপি, জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতা এবং পুলিশ-র‌্যাব-সামরিক বাহিনী-সীমান্তরক্ষী বাহিনীর বড় কর্তাসহ প্রধান কুশীলবদের ধরা-ছোঁয়ার বাইরে রেখে মাঠ পর্যায়ের কিছু মানুষকে হত্যার মাধ্যমে মাদকের নির্মূল তো হবেই না উল্টো র‌্যাব-পুলিশের বেপরোয়া তৎপরতা বৈধতা পাবে। এর সুযোগে রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধি প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার সুযোগ তৈরি হবে, যার কিছু আলামত ইতোমধ্যেই লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সবচেয়ে আশঙ্কাজনক হল- এটিকে স্বাভাবিক কাজ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস অদূর ভবিষ্যতে আরও নানা ক্ষেত্রে বিস্তৃত হবে। পাশাপাশি এধরনের তৎপরতা সরকারের ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনের বর্তমান প্রেক্ষাপটে ভীতিসঞ্চারপূর্বক মানুষের প্রতিবাদের শক্তি ও অধিকারবোধকে নষ্ট করার হীন অপপ্রয়াসও বটে। মাদকের ভয়াবহ বিস্তারে উদ্বিগ্ন মানুষ, যারা এ জাতীয় হত্যাকান্ডের পক্ষে সমর্থন জানাচ্ছেন, তাদেরকে এর স্বরুপ ও বহুমাত্রিক প্রভাব উপলব্ধি করতে হবে। প্রবল প্রতিবাদ-প্রতিরোধের মাধ্যমে এ জাতীয় কর্মকান্ড ঠেকানো না গেলে ভবিষ্যতে দেশে গণতান্ত্রিক অধিকারের পরিসর আরও সংকুচিত হবে, আরও বেপরোয়া উন্মত্ত দুঃশাসন জনগনের ওপর চেপে বসবে।

তিনি আরও বলেন, শাসকদের প্রত্যক্ষ ভূমিকা ও পৃষ্ঠপোষকতায় গোটা সমাজ জুড়েই নানা ধরনের অপরাধ প্রবণতা দিন দিন বাড়ছে। ব্যাংক ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নির্বিচারে লুটপাট, অর্থপাচার, ফ্লাইওভার পদ্মাসেতুসহ বড় প্রকল্পগুলোতে চুরি-দুর্নীতি, বার বার মূল্য বৃদ্ধির মাধ্যমে জনগনের পকেট কাটা ইত্যাদি নানা কর্মকান্ডের ফলাফলে সরকারের অনৈতিক অবস্থান জনগনের সামনে স্পষ্ট। এ অনৈতিক সুবিধাবাদী রাজনীতির লাঠিয়াল বানাতে যুবক-তরুণদের সুবিধাভোগী, স্বার্থপর ও অনৈতিক আয়ের পথে যাওয়ায় উৎসাহিত করা হচ্ছে। ভোগবাদী মনসিকতার বিস্তার ঘটানোর ফলে রাজনৈতিক- অর্থনৈতিক বৃত্তের পরিপূরক অপরাধপ্রবণ সাংস্কৃতিক মানসিকতা গড়ে উঠেছে। এ কারণে মাদক নির্মূলের আন্তরিকতা ও লক্ষ্য এদের কোনদিনও থাকবে না। আবার বিদ্যমান পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় মুনাফা-ই যেখানে একমাত্র নীতি সেখানে মানুষ মরবে বা ধ্বংস হবে- এ বিবেচনা অর্থহীন। এ কারনেই প্রতিবছর কেবল ইয়াবার ব্যবসা হয় ৪৮ হাজার কোটি টাকার।

তিনি বলেন, মাদক ব্যবসার বিস্তৃত নেটওয়ার্কে যারা ব্যবহৃত হয় তারা একদিকে যেমন সমাজের ভেতর থেকে যুব সমাজকে নৈতিকভাবে ধ্বংস করার প্রণোদনা পায়, তেমনি দারিদ্রতা ও বেকারত্বের বলি হয়। তাই আইন বা হত্যা করে মাদক বন্ধ করা যাবে না। সমাজ জুড়ে যে তীব্র বৈষম্য-বেকারত্ব তাকেই চিরতরে ঘোচাতে হবে। বিদ্যমান পুঁজিবাদী ব্যবস্থা বদলের সংগ্রামে জনগণের সংগঠিত গণআন্দোলন ছাড়া যা কখনোই সম্ভব হবে না।

কমরেড মুবিনুল হায়দার চৌধুরী অবিলম্বেই এসব হত্যাকান্ড বন্ধের দাবি জানান। একই সাথে মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রক এমপি সহ গডফাদারদের শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি বিদ্যমান ব্যবস্থা বদলের সংগ্রামে এগিয়ে আসার জন্য জনগণ ও বিভিন্ন বাম, গণতান্ত্রিক শক্তির প্রতি আহ্বান জানান।

Check Also

1531906367_3

প্রতিবাদ ছাড়া মর্যাদা নিয়ে বাঁচার কথা ভাবা যায় না

দেশের আকাশে-বাতাসে এখন কান্না-বেদনা-আর্তি ঘুরে বেড়াচ্ছে। তার সাথে মিশে আছে ক্ষোভ-বিদ্রোহ। মানুষ এখন আর বাধ্য …