Breaking News

সিরিয়ায় মিসাইল হামলার প্রতিবাদে ঢাকায় বিক্ষোভ

pic-1 copy

সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কসহ অন্যান্য স্থানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, বৃটেন ও ফ্রান্স কর্তৃক মিসাইল হামলার প্রতিবাদে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল(মার্কসবাদী)-এর উদ্যোগে ১৫ এপ্রিল রবিবার বিকেল সাড়ে ৪টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনের সড়কে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন দলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ আলমগীর হোসেন দুলাল, মানস নন্দী, উজ্জ্বল রায়, ফখরুদ্দিন কবির আতিক, সাইফুজ্জামান সাকন প্রমুখ। সমাবেশের পর একটি বিক্ষোভ মিছিল রাজপথ প্রদক্ষিণ করে।

সমাবেশে নেতবৃন্দ বলেন, “মিথ্যা অভিযোগে জাতিসংঘকে পাশ কাটিয়ে সিরিয়ায় মার্কিন নেতৃত্বাধীন সাম্রাজ্যবাদী জোটের একতরফা হামলা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন। আসাদ সরকারের বিরুদ্ধে রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের যে অভিযোগে হামলা চালানো হয়েছে তা তদন্তের জন্য Organization for Prohibition of Chemical Warfare(OPCW)-এর পরিদর্শক দল সিরিয়ায় পৌছেছে, তাদের তদন্তের জন্য পর্যন্ত অপেক্ষা করা হয়নি। সিরিয়ার সরকার এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে, সিরিয়ার মিত্র রাশিয়া বলেছে তাদের হাতে প্রমাণ রয়েছে বৃটিশ গোয়েন্দাদের যোগসাজশে কারা কিভাবে রাসায়নিক হামলার নাটক সাজিয়েছে। বিদ্রোহীদের পক্ষের সূত্র উদ্ধৃত করে কর্পোরেট মিডিয়া নিজস্ব কোন অনুসন্ধান ছাড়াই রাসায়নিক হামলার খবর ও ছবি প্রচার করেছে। কিন্তু বেশ কিছু স্বাধীন সাংবাদিক বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত পূর্ব ঘৌতার দ্যুমায় সরেজমিন পরিদর্শনে রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের কোন তথ্য পাননি, স্থানীয় হাসপাতালগুলোও এধরণের আক্রান্ত কোন রোগী পায়নি বলে উল্লেখ করেছেন। অতীতে এই সাম্রাজ্যবাদীরাই গণবিধ্বংসী অস্ত্র থাকার অভিযোগে ইরাকে হামলা চালিয়ে পরবর্তীতে নিজেরাই স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছে যে, তাদের দেয়া তথ্য মিথ্যা ছিল। তাছাড়া, বর্তমান পরিস্থিতিতে সিরিয়ার সরকারের নিজের নাগরিকদের বা বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে রাসায়নিক অস্ত্র প্রয়োগের কোন যুক্তি নেই। কারণ, সাম্রাজ্যবাদী ও আঞ্চলিক শক্তির মদদ সত্ত্বেও বিদ্রোহীরা সম্পূর্ণ পরাজিত হবার দ্বারপ্রান্তে। দীর্ঘ গৃহযুদ্ধে বিজয়ের মুহূর্তে এসে রাসায়নিক হামলা চালিয়ে আন্তর্জাতিক নিন্দা ও চাপের মধ্যে নিজেদের ফেলার কোন কারণ নেই। গত কয়েকবছরে বেশ কয়েকবার একই অভিযোগ তোলা হয়েছে, কোনবারই তা প্রমাণিত হয়নি। বরং আসাদ সরকারকে ঘায়েল করতে বিদ্রোহীরা নিজেরাই রাসায়নিক পদার্থ ছড়িয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।”

নেতৃবৃন্দ আরো বলেন — “প্রকৃত ঘটনা হল সাম্রাজ্যবাদবিরোধী, জাতীয়তাবাদী ও সেক্যুলার আসাদ সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে সিরিয়াকে বশংবদ রাষ্ট্রে পরিণত করতে মার্কিন-বৃটিশ-ফ্রেঞ্চ জোট এবং তাদের সহযোগী সৌদি-কাতার-তুরস্ক ইত্যাদি আঞ্চলিক শক্তি বহুদিন ধরে চেষ্টা চালিয়ে আসছে। গত ৭ বছর ধরে আসাদবিরোধী শক্তি ও আলকায়দা-আইএস অনুসারী মৌলবাদী গোষ্ঠীগুলোকে অস্ত্র-অর্থ-প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছে এই দেশগুলো। রাশিয়া ও ইরানের সহযোগিতায় সিরিয়ান সেনাবাহিনী ও জনগণ তা প্রতিরোধ করলে সাম্রাজ্যবাদীরা জাতিসংঘের সামরিক হস্তক্ষেপের জন্য বারবার চেষ্টা করেছে। কিন্তু, রাশিয়ার ভেটোর কারণে সে চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের মিথ্যা অভিযোগ তুলে বিশ্ব জনমতকে বিভ্রান্ত করার অপকৌশল নিয়েছে সাম্রাজ্যবাদীরা। একাজে তাদের সহযোগী ভূমিকা পালন করছে কর্পোরেট মিডিয়া। মার্কিন নেতৃত্বাধীন সাম্রাজ্যবাদীরা সম্পদ লুন্ঠন, বাজার দখল ও অস্ত্র বাণিজ্যের প্রসারের লক্ষ্যে বিশ্বব্যাপী যুদ্ধচক্রান্ত চালাচ্ছে ও হানাহানিকে মদদ দিচ্ছে। দেশে দেশে দেশপ্রেমিক ও যুদ্ধবিরোধী জনগণের শক্তিশালী সাম্রাজ্যবাদবিরোধী লড়াই-ই কেবল ইরাক, লিবিয়া ও আফগানিস্তানের মত ধ্বংসযজ্ঞের কবল থেকে সিরিয়াকে বাঁচাতে পারে। এই পথেই সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের কবল থেকে দুর্বল দেশগুলোর সার্বভৌমত্ব রক্ষা পেতে পারে। ”

Check Also

yemen

সৌদি রাজতন্ত্রের সাথে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা স্মারক জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী

বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী)’র সাধারণ সম্পাদক কমরেড মুবিনুল হায়দার চৌধুরি সৌদি আরবের সাথে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা …