Breaking News

সুন্দরগঞ্জে পুলিশী গুলিবর্ষণের প্রতিবাদে বিক্ষোভ

 

pic-2

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তারাপুর ইউনিয়নের চরখোর্দ্দা ও লাঠশালার চরে বেক্সিমকো গ্রুপের মালিকানাধীন তিস্তা সোলার প্ল্যান্ট-এর জন্য জমি কেনার নামে নিয়মবহির্ভূতভাবে আবাদী জমি দখলের অপচেষ্টার প্রতিবাদে আন্দোলনরত জনতার ওপর গত ১০ এপ্রিল পুলিশের গুলিবর্ষণে ১০জন আহত হওয়ার ঘটনার বিচার এবং মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে আজ এক বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী) ঢাকা মহানগর শাখার উদ্যোগে আজ ১৩ এপ্রিল শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৪টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনের সড়কে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন দলের কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতৃবৃন্দ আলমগীর হোসেন দুলাল, মানস নন্দী, উজ্জ্বল রায়, জহিরুল ইসলাম, ফখরুদ্দিন কবির আতিক প্রমুখ। সমাবেশের পর একটি বিক্ষোভ মিছিল রাজপথ প্রদক্ষিণ করে।

সমাবেশে নেতবৃন্দ বলেন, “কৃষিজমি ধ্বংস করে কোন ধরণের প্রকল্প করার বিরুদ্ধে সরকারিভাবে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তিস্তা সোলার প্ল্যান্ট প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় ১০০০ একর জমি অনাবাদী ও বসতবিহীন এলাকা থেকে ক্রয় বা অধিগ্রহণ করার কথা। উক্ত এলাকায় লাঠশালার চরে যথেষ্ট অকৃষি নীচু জমি রয়েছে বলে এলাকাবাসীর দাবি। অথচ, ভূমি উন্নয়নে খরচ বেশি হবে বলে বেক্সিমকো কোম্পানি সেদিকে না গিয়ে জনবহুল ও উর্বর চরখোর্দ্দা এলাকায় জমি কেনা ও দখলের চেষ্টা করছে। তারা তিনফসলী জমি, বাস্তুভিটা, স্কুল ধ্বংস করে সেখানে বিদ্যুৎপ্রকল্প করতে চাচ্ছে। এর প্রতিবাদে এলাকাবাসী সংগঠিত হয়ে ‘আবাদী জমি ও বসতভিটা রক্ষা সংগ্রাম কমিটি’-র ব্যানারে গত ৪ মাস ধরে আন্দোলন করছে। আন্দোলনের পাশে আছে বাসদ(মার্কসবাদী) সুন্দরগঞ্জ উপজেলা ও গাইবান্ধা জেলা নেতৃবৃন্দ। আন্দোলনকারীরা সৌর বিদ্যুৎপ্রকল্পের বিরোধী নয়, তাদের দাবি অকৃষি জমিতে এই প্রকল্প নির্মাণ করা হোক। বেক্সিমকো কোম্পানি নামে-বেনামে গত ১বছর ধরে এলাকায় জমি কিনছে, কিছু জমি ভুয়া দলিলের মাধ্যমে কেনা হয়েছে। অনিচ্ছুক চাষীদের জমি বিক্রির জন্য চাপ ও প্রলোভন দেয়া হচ্ছে। সর্বশেষ তারা কিছুদিন আগে জমি ভরাটের নামে অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে নদী থেকে বালু উত্তোলন করে তাদের ক্রয়কৃত জমিতে বালু ফেলা শুরু করে। এতে পাশ^বর্তী চাষীদের জমি ক্ষতিগ্রস্ত হলে তারা প্রতিবাদ করেন, একপর্যায়ে ড্রেজারের পাইপ কেটে দেন। সোলার প্ল্যান্ট কর্তৃপক্ষের সমর্থনে গত ১০ এপ্রিল পুলিশ এলাকায় ধরপাকড় করতে গেলে স্থানীয় জনসাধারণ সংগঠিত হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। গণবিক্ষোভ দমাতে পুলিশের গুলিবর্ষণ-টিয়ারগ্যাস-রাবার বুলেটে অনেকে আহত হন, ১০জনকে সুন্দরগঞ্জ ও রংপুরে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ জনতা তিস্তা সোলার লিমিটেডের স্থানীয় অফিস আক্রমণ করে ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এই ঘটনাকে ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের ফাঁসাতে কর্তৃপক্ষের নির্দেশে কর্তব্যরত আনসাররা নিজেরাই পরে অফিসে আগুন লাগিয়ে দেয়। সবমিলিয়ে এলাকায় বিস্ফোরণন্মুখ পরিস্থিতি বিরাজ করছে।”

Check Also

3.6.18 SPBM 2 copy

বাজেটে জনকল্যাণমূলক খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির দাবি

  ২০১৮-১৯ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে অনুৎপাদনশীল খাতে ব্যয় কমিয়ে কৃষি-শিক্ষা-স্বাস্থ্যসহ জনকল্যাণমূলক খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির দাবিতে …