Breaking News

সোভিয়েত শিশু সাহিত্য: সাহিত্যের সেই নতুন ধারা – সুজয় চৌধুরী সাম্য

russ-bannar2

ছেলে শহরের চার্চ থেকে পড়ালেখা করে ফিরে আসার মুহূর্তে “শহর থেকে কী শিখে আসলি দেখি তো পরীক্ষা করে”- বলেই ছেলের বুকে ঘুষি মেরে বসে বাবা। ছেলেও কম যায় না, বাবাকে পাল্টা ঘুষি মেরে দুজন লিপ্ত হয় মল্লযুদ্ধে। বাবা কিন্তু খুশি। শহরের শিক্ষার ডামাডোলে ছেলে তার আসল শিক্ষা নিতে ভুল করেনি, যে শিক্ষা কোনো পাঠ্যপুস্তক থেকে পাওয়া যায় না। প্রকৃতি ও সমাজের থেকে পাওয়া। লড়াই করে করে পাওয়া ‘আসল’ শিক্ষা। পুঁথিগত শিক্ষার পাশাপাশি সেই ‘আসল’ শিক্ষাতেও শিক্ষিত বাবা-ছেলে দুজনেই।

বলছিলাম প্রাক-সোভিয়েত রুশ ঔপন্যাসিক নিকোলাই গোগলের লিখিত উপন্যাস ‘তারাস বুলবা’র কথা। বিপ্লবের পর সোভিয়েত ইউনিয়ন এক মুহূর্তের জন্যও ভুলে যায়নি সেই আসল শিক্ষার তাৎপর্য। তাই শিক্ষা কাঠামো থেকে শুরু করে সমাজকে ঢেলে সাজানো সমস্তটাতেই ছিল তাদের এই ‘আসল’ শিক্ষার চর্চা। আর সেই আসল শিক্ষাকে সামনে আনতে সোভিয়েত ইউনিয়নে গড়ে উঠলো সাহিত্যের সম্পূর্ণ এক নতুন ধারা – ‘সোভিয়েত শিশু সাহিত্য’। সোভিয়েত সাহিত্যের এই যে নতুন ধারা গড়ে উঠেছে তাতে প্রায় সমস্তটাতেই গুরুত্ব পেয়েছে এই ‘আসল’ শিক্ষাই।

আলোচনার আগে
সোভিয়েত শিশু সাহিত্য নিয়ে আলোচনা করতে গেলে আসলে শুরু করতে হয় প্রাক- সোভিয়েত যুগের প্রখ্যাত দুই রুশ সাহিত্যিক নিকোলাই গোগল আর লিও টলস্টয়-কে দিয়ে। ধর্মীয় আবেগ আর মানবতাবাদ মিশে মিশে থাকলেও নিকোলাই গোগল আর লিও টলস্টয় খুব গুরুত্বপূর্ণ দিক সামনে নিয়ে এসেছিলেন যা বাল্যকালেই ভাবনার খোরাক যোগায়। একদিকে নিকোলাই গোগল তাঁর সাহিত্যে দেখিয়েছেন যে আসল বা সত্যিকারের শিক্ষা বই পড়ে নয় বরং বাস্তব অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়েই গড়ে ওঠে। দেখিয়েছেন একদল উচ্ছৃঙ্খল, উদ্ধত বেপরোয়া মানুষ কীভাবে একটা আদর্শ, একটা উদ্দেশ্যের সামনে আমূল পাল্টে যায়, সংগ্রাম কীভাবে মানুষকে দৃঢ়চেতা করে গড়ে তোলে। অন্যদিকে লিও টলস্টয় ও তাঁর সাহিত্যে তুলে এনেছেন মানুষকে ভালোবাসার কথা। দেখিয়েছেন বিনয়, ক্ষমা, মমতা কিংবা সহমর্মিতা কীভাবে সামগ্রিক সৌন্দর্য গড়ে তুলতে পারে।

যাত্রা হলো শুরু
বিপ্লব পরবর্তী সোভিয়েত ইউনিয়ন সিদ্ধান্ত নিল শিশু সাহিত্য নামের আলাদা ধারা তারা গড়ে তুলবে। তবে তারা জানতো নতুন এই ধারায় তাদের পূর্ববর্তী শিক্ষাকে ভুলে গেলে চলবে না। আবার তাকে আরো উন্নতরূপে বিকশিত করতে হবে। সেই কাজে উদ্যোগী হয়ে তারা শিশু সাহিত্যের এক নতুন ধারাই শুধু গড়ে তোলেনি, তাকে বিকশিত করেছে এবং বিভিন্ন ভাষায় অনুবাদের মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছে বিশ্বের নানা প্রান্তে।

কিন্তু এই কাজ কি খুব সহজ ছিল? মনে হয় খুব সহজ ছিল না। জারের আমলে বিরাট সংখ্যক জনসাধারণ ছিল অশিক্ষিত ও পাঠাভ্যাস বিবর্জিত। তাদেরকে শিক্ষিত করে গড়ে তোলার পাশাপাশি পাঠাভ্যাস গড়ে তোলার কাজও তাদের যুগপৎ করতে হয়েছে। কিন্তু যে সোভিয়েত ইউনিয়ন সারা বিশ্বকে পাল্টানোর দৃঢ় সংকল্প নিয়েছে, তারা তো হার মানবার বা কষ্ট দেখে পালিয়ে যাবার নয়। ফলে অসংখ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যেমন সোভিয়েত ইউনিয়ন গড়ে তুলেছে, তেমনি গড়ে তুলেছে প্রকাশনা সংস্থা, বিরাট এক লেখক ও অনুবাদক গোষ্ঠী। সেই সব প্রকাশনা সংস্থা থেকে বিপুল সংখ্যক বই ও পত্রিকা বের করেছে। প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার সময় থেকেই শিশুদের মধ্যে পাঠাভ্যাস গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছিল সোভিয়েত। যদিও সেই বই ও পত্রিকাই সোভিয়েত শিশু সাহিত্যের ধারাকে বিকশিত ও প্রকাশিত করেছে। কিন্তু বই ও পত্রিকা প্রকাশ করলেই তো হবে না, বই-পত্রিকা কী উদ্দেশ্যে বের হবে আর কেমন হবে – সেই প্রশ্নের উত্তর তাদের খুঁজতে হয়েছে। গবেষণা করতে হয়েছে।

গবেষণা করে সোভিয়েত ইউনিয়ন দেখেছে যে একটা সুখী, আনন্দময় ও বিকাশমান শৈশব আসলে পরবর্তীতে সত্যিকারের একজন বিকশিত মানুষ তৈরি করে। কিন্তু সুখী ও আনন্দময় শৈশব বলতে আমরা কি বুঝবো? সোভিয়েত গবেষকরা বললেন: “আমরা আমাদের ছেলেমেয়েদের সুন্দর কাপড় পড়াই, তাদের দেখি হাসিখুশি প্রাণোচ্ছ্বল। এ সবই ভালো কিন্তু বিকাশমান সুখী শৈশবের অতি ক্ষুদ্র অংশ মাত্র।”

“লোকে প্রায়ই বলে, অভাব-অনটন আর দুশ্চিন্তার মধ্যে যে ব্যক্তি বড় হয়েছে সে শৈশব থেকে বঞ্চিত। কিন্তু অন্তহীন আলস্য, আমোদ-প্রমোদ আর আনন্দ-স্ফূর্তির মধ্যে অতিবাহিত শৈশবকে কি আমরা বিকাশমান ও সুখী শৈশব বলতে পারবো? অনেকের মতে, নিরাপদ আর নিশ্চিন্ত শৈশবই হচ্ছে সুখের শৈশব। তবে এমতাবস্থায় জীবন অসার হয়ে পড়ে। একমাত্র বুদ্ধি ও মনোবল, অনুভূতি ও পেশির সুসামঞ্জস্য মানুষকে বেঁচে থাকার প্রকৃত আনন্দ দিতে পারে। মানবিকতা, নৈতিকতা, নতুনত্ব, বিস্ময়, কৌতূহল আর আবিষ্কারে ভরপুর ক্রীড়া ও শ্রম, জ্ঞান ও সৃজন, মেলামেশা ও গতি – এগুলোই হচ্ছে শৈশবের প্রকৃত ধর্ম। আর এর সমস্ত কিছুতে পিতামাতার কোমল ও স্নেহময় সংস্পর্শ যুক্ত হলেই আমরা তাকে সুখী ও বিকশিত শৈশব বলতে পারি।”

সোভিয়েত শিশু সাহিত্য কী উদ্দেশ্যে হবে? এই গবেষণা থেকে তারা বুঝল যে, শিশুর শৈশবকে বিকশিত করতে হলে সহযোগিতার পরিপূরক একটা সাহিত্যের ধারা তৈরি করতে হবে। আর কেমন হবে সেই সাহিত্য? উত্তর এখানেই। যে সাহিত্য এই বিকাশকে এগিয়ে নেবে তেমনই।

কেমন ছিল সোভিয়েত সাহিত্য?
সাধারণত শিশু সাহিত্য বলতে রূপকথা আর অভিযানেই সীমাবদ্ধ ছিল তখনকার শিশু সাহিত্য। সেই রূপকথা ছিল রাজা,রানী,রাজপুত্রের রূপকথা। আর শিশু কিশোরদের অভিযানের কাহিনীগুলো ছিল এমন যে, গল্পের কোনো এক নায়ক খুব বুদ্ধি করে কোনো অপরাধীকে ধরিয়ে দিয়েছে অথবা কোনো পাহাড় বা জঙ্গল বা নদীতে গিয়েছে। সেখানে মজার মজার অনেক ঘটনা ঘটছে, এইটুকুই। কিন্তু সোভিয়েত শুধুমাত্র এটুকুতেই আটকে থাকতে চায়নি। বিকশিত মানুষ গড়ে তোলার লক্ষ্যেই যে তার সাহিত্য পথের নতুন অভিযাত্রা। তাই তারা সাহিত্য নির্মাণে নতুন পদ্ধতি তৈরি করলো। এই পদ্ধতিটা হল তাদের উদ্দেশ্যের পরিপূরক আপাত বৈশিষ্ট্যহীন অথবা বৈশিষ্ট্যমন্ডিত ছোট ছোট ঘটনা বা সংলাপ (কথোপকথন) দিয়ে ছোট বড় নির্বিশেষে সবাইকে ভাবিয়ে তোলা।

যেমন প্রচলিত রাজা-রানী-রাজকন্যা-রাজকুমারের রূপকথা থেকে বের হয়ে এসে তারা সাধারণ মানুষদের রূপকথা তৈরি করলো। যে রূপকথার প্রধান চরিত্র সবাই শ্রমজীবী মানুষ। সেখানে উঠে আসলো খনি মালিকের শোষণ, তাদের বিরুদ্ধে শ্রমিকদের লড়াই। সেই কাহিনীতে কোনো কাল্পনিক দেবী তাদের পক্ষে দাঁড়ায় না। সেখানে দৈত্য মানুষ হত্যা করে না বরং এতো বড় শরীর নিয়েও কাজ করে না বলে লজ্জা পেয়ে দ্রুত কাজে নেমে পড়ে। মানুষের শ্রম এবং শ্রম প্রদানকারী শ্রমিকেরা কত মহিমান্বিত সেটা পাঠককে ভাবিয়ে তোলে। যেমন ‘মালাকাইটের ঝাঁপি’ নামের ছোট গল্পে বৃদ্ধ স্তেপানকে গর্ব করে বলতে শুনি : ‘শ্রমিকের হাত সব পারে।’

আবার ছোটদের অভিযান কাহিনীও সেখানে অন্যরকম। সে কাহিনীতে কৌতুক আছে, ঘটনার ঘনঘটা আছে, রোমাঞ্চ আছে, আছে কল্পনাশক্তির প্রয়োগ – কিন্তু ছোট ছোট ঘটনা দিয়ে ভাবিয়ে তোলার আয়োজন আছে তারচেয়েও বেশি।
‘পেনসিল ও সর্বকর্মার অভিযান’ গল্পটিতে যখন প্রুতিক সর্বকর্মার তৈরি জাহাজটিকে নিজের বলে দাবি করে কিশোর টেকনিশিয়ান হয়ে বসে, তখন দেখি সর্বকর্মা ব্যস্ত হয়ে পড়ে প্রুতিককে খুঁজতে। প্রুতিককে খোঁজার এত তাড়াহুড়ো কিসের জন্যে? না, প্রুতিককে ধরিয়ে দিতে বা প্রতিশোধ নিতে কিংবা নিজের কৃতিত্ব জাহির করতে নয়। সর্বকর্মা এইজন্য প্রুতিককে খোঁজে যেন প্রুতিক কোনো অনৈতিক কাজ না করে, অন্যের কাজ চুরি করে নিজের বলে জাহির করতে না শেখে – সেটা ধরিয়ে দিতে।
‘বাবা যখন ছোট’ বইয়ের প্রায় প্রতিটি গল্পে দেখা যায় ছোট্ট বাবা মজার মজার কা- করে। আর গল্পগুলোতে কেউ না কেউ থাকে যারা সেই ভুল থেকে বাবা কি শিখল সেটা একটু একটু করে ধরিয়ে দেয়। আবার ‘তিমুর ও তার দলবল’ রোমাঞ্চ উপন্যাসে তিমুরের খেলার ছলে মানুষকে সাহায্য করা কিংবা সবাই মিলেমিশে কাজ করাটা কত আনন্দের হতে পারে সেটা দেখিয়ে দেয়াও উল্লেখযোগ্য।

মর্যাদাবোধ কত গুরুত্বপূর্ণ সেটাও সোভিয়েত সাহিত্য গল্পে গল্পে দেখাচ্ছে। ছোট্ট তিমুর বলছে অন্যায় বলপ্রয়োগে মানুষ হিসেবে নিজেই তো ছোট হয়ে যাবো। কেন তাহলে সবাই অন্যায় বলপ্রয়োগ করে? তিমুর আর একটি অংশে বলে, দায়িত্বশীল মানুষেরা মানুষকে আনন্দ দিয়ে আনন্দ পাওয়া থেকে কখনো বঞ্চিত হয় না।

সমাজভাবনা গড়ে তুলতে গিয়ে সোভিয়েত সাহিত্যিকেরাও নানান সংলাপ (কথোপকথন) বা ঘটনার আশ্রয় নিয়েছেন। তাই ‘পেনসিল ও সর্বকর্মার অভিযানে’ ডাকাত ও গুপ্তচর ধরা পড়ার পর কেউ একজন বলে, “আহারে বাছাদের তো তোরা কেউ কাজ দিসনি, তাই বেচারারা বাধ্য হয়ে এইসব খারাপ কাজ করতে যায়।”

সোভিয়েত সাহিত্য যত্ন নিয়ে তৈরি করেছে প্রতিটি চরিত্র। অহেতুক বিদ্বেষ তৈরি না করে ভালোবাসা ও বিশ্বাস তৈরি করতে চেয়েছে। তাই এইসব গল্পের ভিলেনদের দেখে ঠিক ঘৃণা বা ক্রোধ জেগে ওঠে না বরং করুণা হয়। এই সাহিত্যে মমতার সাথে তার অপরাধী হওয়ার কারণ দেখানো হয়। মাশার ছেলেবেলার গল্পে, মাশার দুষ্টুমিতে অতিষ্ঠ পাড়া-প্রতিবেশীদের একজন বলে, “আহা মাশার বাবা যুদ্ধে মারা গিয়েছে। কেউ ওকে শেখানোর ছিল না। তাই ও দুষ্টু হয়েছে।”

আবার ছোট শিশুদের মনোজগৎ, আবেগের নানা দিক নিয়েও সর্বব্যাপক কাজ সোভিয়েত সাহিত্য করার চেষ্টা করেছে। ‘পিতা ও পুত্র’ গল্পে সেরিওজার মনোজগৎ জীবনের প্রতি দিনকার ঘটনাবলীর মধ্য দিয়ে কীভাবে গড়ে উঠছে, তা আমরা দেখি। গল্পে সেরিওজাকে সাময়িকভাবে রেখে ওর বাবা-মায়ের প্রস্থান সে মেনে নিতে পারে না এবং অসহায় হয়ে পড়ে। ভাষায় মনের কথা আনতে না পেরে সে কীভাবে ক্রমাগত বলতে থাকে, আমি তোমাদের সাথে যাবো, আমি তোমাদের সাথে যাবো। গল্পে আরা দেখতে পাই যে বাবা-মায়ের যাওয়ার দিন যত এগিয়ে ছোট্ট সেরিওজার অসহায়ত্ব কীভাবে বাড়তে থাকে। কীভাবে সে নিজেকে অপরাধী মনে করে, এবং ও ভাবতে থাকে যে ও যদি দুষ্টুমি না করতো ওর মা ওকে ঠিকই নিয়ে যেতো। আত্মবিশ্বাস, মানুষের প্রতি বিশ্বাস নষ্ট হয়ে ও কীভাবে নির্জীব হয়ে যেতে থাকে তা আমরা দেখি।

যাওয়ার দিন বাবা চলন্ত ট্রাক থামিয়ে দৌড়ে এসে সেরিওজাকে বলে যে ওকে রেখে যাওয়ার সিদ্ধান্ত ঠিক হয়নি। সেরিওজা যেন তৈরি হয়, তাকেও বাবা-মা সাথে নিয়ে যাবে। এই কথাটি শোনার পর থেকে সেরিওজার তাড়াহুড়োয় তৈরি হওয়া, আত্মবিশ্বাস ও আনন্দে ভরপুর হয়ে আবার প্রাণবন্ত হয়ে উঠা পাঠককে মুহূর্তে নাড়িয়ে দিয়ে যায়।

ফলে ক্রমাগত কাহিনীর ধারা বর্ণনার চেয়ে আমাদের জীবনেরই নানা ঘটনাবলী হাসি, কান্না, আনন্দ ও আবেগের মুহূর্ত ছোট ছোট বণর্নায় উপস্থাপন করে সোভিয়েত শিশু সাহিত্য সব বয়সী পাঠককে যেমন আপ্লুত করে তেমনি জীবনকে দেখার নানা শিক্ষা তুলে ধরে।

সবশেষে
আজ সোভিয়েত ইউনিয়নে সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থার পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে সোভিয়েত শিশু সাহিত্যের ক্রমবিকাশও থমকে দাঁড়িয়েছে। প্রগতি, রঙধনু, রাঁদুগা ইত্যাদি প্রকাশনা বন্ধ হওয়ায় সোভিয়েত শিশু সাহিত্যও মানুষ থেকে দূরে সরে গিয়েছে। সে সাহিত্যে নায়ক মানবিক, মানুষের প্রতি দায়বদ্ধ। তারা নায়কোচিত কোনো কাজ করে না বরং মানবিক কাজ করতেই বেশি পারঙ্গম। যারা মানুষকে প্রবল ভালবাসতে পারে। কিন্তু আজ সেই সাহিত্যের জায়গা দখল করেছে আরেক ধরনের শিশু সাহিত্য। এই সাহিত্যে নায়ক হিরোয়িক কাজ করে বটে, কিন্তু মানবিক নয়। মানুষের দুঃখ তাকে কাঁদায় না। প্রত্যয়ী করে না। বরং সবাইকে তাক লাগিয়ে দিতেই তার যাবতীয় আগ্রহ।

ফলে আজকের নতুন নায়কদের পাঠ করে পাঠকদের মধ্যে বিকশিত মানুষ হওয়ার চেয়ে তাক লাগানোর প্রবণতাই বেড়েছে। ফলে নতুন বিকশিত মানুষ গড়তে হলে সোভিয়েত সাহিত্য যে মান সৃষ্টি করে গিয়েছে, তাকে ছাপিয়ে আরো উন্নততর সাহিত্য সৃষ্টি করতে পারলেই তা সমাজকে, মানুষের মননকে এগিয়ে নেবে। সেই সাহিত্য সৃষ্টির সূচনা এখনই হোক।

নভেম্বর বিপ্লবের শতবর্ষে ঐকতান – চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র

Check Also

1361295836

ম্যাক্সিম গোর্কির ‘মা’ – মানস নন্দী

ম্যাক্সিম গোর্কির কালজয়ী অসাধারণ উপন্যাস ‘মা’ দুনিয়াজুড়ে সর্বাধিক পঠিত, সবচেয়ে বেশি আলোচিত- এ কথা সকলেই …