Friday, July 19, 2024
Homeফিচারকুমিল্লার মুরাদনগরে হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়ি-ঘরে অগ্নিসংযোগ ও হামলার ঘটনায় বাসদ(মার্কসবাদী)-র নিন্দা

কুমিল্লার মুরাদনগরে হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়ি-ঘরে অগ্নিসংযোগ ও হামলার ঘটনায় বাসদ(মার্কসবাদী)-র নিন্দা

বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল(মার্কসবাদী)-র সাধারণ সম্পাদক কমরেড মুবিনুল হায়দার চৌধুরী আজ এক বিবৃতিতে ফেসবুকে স্ট্যাটাস-কমেন্ট দিয়ে ধর্ম অবমাননার ‘অভিযোগে’ কুমিল্লার মুরাদনগরের কোরবানপুর গ্রামে কয়েকটি হিন্দু বাড়িতে ভাঙ্গচুর-অগ্নিসংযোগের ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং হামলার উস্কানিদাতা ও জড়িতদের গ্রেপ্তার-বিচার দাবি করেছেন।
বিবৃতিতে কমরেড মুবিনুল হায়দার চৌধুরী বলেন, “লালমনিরহাটের বুড়িমারিতে কথিত কোরান অবমাননার অভিযোগে একজন মানসিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে পিটিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যার পর মুরাদনগরের ঘটনা দেখিয়ে দিচ্ছে – দেশে ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। এদু’টি ঘটনা ছাড়াও সাম্প্রতিককালে ফেসবুকে লেখায় ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়ার অভিযোগে অনেকের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা-গ্রেপ্তার-প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। কিন্তু সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনায় পুলিশের তৎপরতা চোখে পড়ে না। জনগণকে বিভ্রান্ত করতে লোক দেখানো কিছু পদক্ষেপ নিলেও কোনও ঘটনারই বিচার হয় না। এর আগে ২০১৬ সালে এই কুমিল্লার নাসিরনগরে হামলার ঘটনায় বিচার হয়নি, ২০১২ সালে কক্সবাজারে বৌদ্ধ মন্দিরে অগ্নিসংযোগের ঘটনায়ও বিচার হয়নি। বিচারহীনতার কারণে ক্রমাগত এই ধরণের সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনা বাড়ছে।”
বিবৃতি তিনি বলেন, ‘ সমাজে মানুষের মধ্যে দিন দিন ধর্মান্ধতা, যুক্তিহীন আচরণ ও অগণতান্ত্রিক মনোভাব বাড়ছে। শাসকশ্রেণী মুখে গণতন্ত্রের তুবড়ি ছোটালেও একটা গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারেনি। বরং যতটুকু গণতান্ত্রিক অধিকার ছিল তাকে বিপন্ন করেছে। গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার খোলসে অগণতান্ত্রিক-গণবিরোধী-স্বৈরাচারী শাসন কায়েম করেছে। দেশের শাসনব্যবস্থায় গণতন্ত্রহীনতা ও স্বৈরতান্ত্রিকতা সমাজমননেও প্রভাব ফেলছে। অন্যদিকে অগণতান্ত্রিক-গণবিরোধী-স্বৈরাচারী শাসন পাকাপোক্ত করার লক্ষ্যে জনগণের মধ্যে বিভেদ তৈরি করে রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিল করতে স্বয়ং সরকার বিভিন্ন ঘটনায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষে মদদ জোগাচ্ছে। মুরাদনগরে পুলিশের সাথে একটি সভা থেকে উঠে গিয়ে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় পুলিশের নীরবতা ও নিষ্ক্রিয়তাই তার প্রমাণ।”
বিবৃতিতে তিনি আরো বলেন, ‘আমরা মনে করি, একজন নাগরিক সামাজিক-রাজনৈতিক যেকোন বিষয়ের মতো ধর্মীয় বিষয়েও মত প্রকাশ করতে পারেন। তার মতামত কারো ধর্মীয় বিশ্বাসের বিরুদ্ধে যেতে পারে। এজন্য তার ওপর হামলা করা যায় না। কারো পছন্দ না হলে তার মতামতের সমালোচনা, নিন্দা এমনকি প্রতিবাদ কর্মসূচি করা যেতে পারে। কিন্তু কেউ যদি ভুল বা অন্যায় কথাও বলে, তাকে তাৎক্ষণিক শাস্তি দেয়ার জন্য তার বাড়িঘরে হামলা করার অধিকার কারো নেই। অন্যদিকে যেকোনো নাগরিকের নিরাপত্তা দেয়া সরকারের দায়িত্ব । কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি – ক্ষমতায় থাকার স্বার্থে আওয়ামী লীগ সরকার হেফাজতে ইসলামসহ মৌলবাদী শক্তির সাথে আঁতাত ও আপোস করছে এবং নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে।” তাই কমরেড মুবিনুল হায়দার চৌধুরী দেশের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সম্পন্ন মানুষের কাছে  সাম্প্রদায়িক ও মৌলবাদী শক্তি এবং এই শক্তিকে লালন-পালন ও প্রশ্রয়দানকারী  শাসকদল আওয়ামী লীগের ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
RELATED ARTICLES

আরও

Recent Comments