তিস্তাসহ নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা, সীমান্ত হত্যা বন্ধ ও কাঁটাতারের বেড়া প্রত্যাহার এবং জাতীয় সম্পদের ওপর বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে সোচ্চার হোন
বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী)-র সাধারণ সম্পাদক কমরেড মুবিনুল হায়দার চৌধুরী ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সফর উপলক্ষে এক বিবৃতিতে পার্টির সকল শাখা সংগঠন, সকল স্তরের নেতাকর্মী, ও জনগণের প্রতি দেশের স্বার্থের পক্ষে সোচ্চার প্রতিবাদে সামিল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন : “আগামী ৬ জুন ’১৫ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বাংলাদেশ সফরে আসছেন। এ সফরে মোদী ভারতের একচেটিয়া কর্পোরেট পুঁজির মালিকদের স্বার্থে ‘কানেকটিভিটি’, বিনা শুল্কে ভারতের ২৩টি পণ্যের বাংলাদেশে প্রবেশ, ভারতীয় প্রয়োজনে বাংলাদেশের উপর দিয়ে ‘বিদ্যুৎ করিডোর’, বাংলাদেশের সমুদ্রে সমুদ্র সম্পদ আহরণ (Blue Economy), বাংলাদেশের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদের ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা এবং সর্বোপরি এ অঞ্চলে ভারতের সাম্রাজ্যবাদী কর্তৃত্ব আরো পাকাপোক্ত করার লক্ষ্যে ভারতের ‘জাতীয় নিরাপত্তা’ সংক্রান্ত বিভিন্ন চুক্তি স্বাক্ষর করবেন।
বাস্তবে এসব চুক্তির মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের অর্থনীতি ভারতীয় সাম্রাজ্যবাদী অর্থনীতির উপর আরও নির্ভরশীল হয়ে পড়বে এবং দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের সংকট তৈরি হবে যা আগামীদিনে দেশবাসী প্রত্যক্ষ করবেন। এ অবস্থায় প্রতিটি দেশপ্রেমিক নাগরিকের দায়িত্ব সরকারের এসব আত্মঘাতি সিদ্ধান্ত এবং ভারতীয় সাম্রাজ্যবাদী শক্তির আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সোচ্চার হওয়া।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘ঐতিহাসিক ও প্রাকৃতিক ন্যায্যতা’ ও সমতার ভিত্তিতে তিস্তা-পদ্মাসহ সকল অভিন্ন আন্তর্জাতিক নদীর পানির ন্যায্য হিস্যার দাবি সম্পূর্ণ উপেক্ষিত। কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ভারত গোটা বাংলাদেশকে অবরুদ্ধ করে রেখেছে এবং ১৬ কোটি মানুষের মানবিক অধিকার লংঘন করে চলেছে। সীমান্ত হত্যা নিয়ে বহু আলোচনা সত্ত্বেও তা অব্যাহত আছে। এসব সমস্যার সমাধান না করে মোদীর সফরকে ঘিরে আওয়ামী মহাজোট সরকারের উচ্ছ্বাস আসলে ডামাডোলের আড়ালে জনগণের অধিকার হরণেরই প্রক্রিয়া মাত্র। বিবৃতিতে কমরেড মুবিনুল হায়দার চৌধুরী আমাদের শাসকদের নতজানু নীতি এবং ভারতীয় সাম্রাজ্যবাদী শক্তির আগ্রাসী তৎপরতার বিরুদ্ধে সোচ্চার প্রতিবাদ সংগঠিত করা এবং অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান।