Thursday, May 30, 2024
Homeফিচারনানা গুণে সমৃদ্ধ, মানবিক দিক থেকে অনেক উন্নত, একইসঙ্গে প্রচারবিমুখ এবং নিবেদিত...

নানা গুণে সমৃদ্ধ, মানবিক দিক থেকে অনেক উন্নত, একইসঙ্গে প্রচারবিমুখ এবং নিবেদিত প্রাণ কমিউনিস্ট কর্মী

[হায়দার আকবর খান রনো। বিশিষ্ট প্রগতিশীল লেখক এবং বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য। বাসদ (মার্কসবাদী)’র প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক, এদেশের অনন্যসাধারণ কমিউনিস্ট বিপ্লবী কমরেড মুবিনুল হায়দার চৌধুরী গত ৬ জুলাই ২০২১ তারিখে প্রয়াণের পর তিনি কমরেড হায়দার সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত স্মৃতিচারণ করেন। তাঁর বক্তব্যটি পরবর্তীতে সম্পাদিতরূপে ‘কমরেড মুবিনুল হায়দার চৌধুরী স্মারকগ্রন্থ’—এ সংকলিত হয়। কমরেড মুবিনুল হায়দার চৌধুরীর ১ম মৃত্যুবার্ষিকীতে বক্তব্যটি এখানে তুলে ধরা হলো]

 

প্রথমেই আমি কমরেড মুবিনুল হায়দার চৌধুরীর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করছি। মানুষ মরণশীল। আমরা সবাই চলে যাব। তিনি বেশ কিছু দিন অসুস্থ অবস্থায় ছিলেন। চলে গেলেন। আমাদের দেশের প্রগতিশীল আন্দোলন, বামপন্থী আন্দোলনের জন্য তাঁর এই যাওয়াটা একটা বিরাট ক্ষতির কারণ হয়ে থাকতে পারে বলে মনে হয়।

 

কমরেড মুবিনুল হায়দার চৌধুরীর সঙ্গে আমার পরিচয় এবং ঘনিষ্ঠতা মূলত বাংলাদেশ হওয়ার পরে। এর আগে তিনি ভারতে ছিলেন এবং সেখানকার একটি বামপন্থী সংগঠন এসইউসিআই—এর সঙ্গে খুবই ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিলেন। খুবই ছোটবেলা থেকেই তিনি সেখানে এই সংগঠনে যুক্ত ছিলেন বলে তাঁর কাছ থেকে শুনেছি।

 

বাংলাদেশ স্বাধীন হলো। তিনি এদেশে আসলেন। তাঁর সঙ্গে আমার পরিচয় কিন্তু তার আরও পরে। তারপর নানা ঘটনার মধ্য দিয়ে জাসদ তৈরি, বাসদ—এর প্রতিষ্ঠা। বাসদের প্রতিষ্ঠাকালেই তাঁর সঙ্গে আমার ঘনিষ্ঠতা হয় এবং আমি এমন একজন মানুষ হিসাবে তাঁকে খুঁজে পেয়েছি, যে মানুষটি নানা গুণে সমৃদ্ধ, মানবিক দিক থেকে অনেক উন্নত, একইসঙ্গে প্রচারবিমুখ এবং একজন নিবেদিত প্রাণ কমিউনিস্ট কর্মী হিসাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্যই যিনি কাজ করে গেছেন।

 

আমার মনে আছে, অনেক সময় বাসদ অফিসের বারান্দায় শীতের রোদে পাশাপাশি বসে গল্প করেছি। চমৎকার মানুষ, চমৎকার তাঁর রসবোধ। এবং তাঁর কথার মধ্যে কোনো দাম্ভিকতা নেই। তিনি অনেক কিছু জানতেন, কিন্তু কথার মধ্যে পাণ্ডিত্যসুলভ কোনো কিছু তিনি প্রকাশ করতেন না। অ্যাজ অ্যা কম্পানি, তাঁর সাথে সেটা ছিল চমৎকার কম্পানি। তাঁর সাথে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আলাপ করেছি, কথা বলেছি। তাতে আমার খুবই ভালো লেগেছে।

 

একবার বিদেশে আমরা ছিলাম একসঙ্গে। সাল, তারিখ ওভাবে মনে নেই। হল্যান্ডে একটা কনফারেন্সে, সম্ভবত ফিলিপাইনের কমিউনিস্ট পার্টির উদ্যোগেই সেটা হয়েছিল। সেখানে আমি ছিলাম, হায়দার ভাইও ছিলেন। তখন তাঁর সাথে আরও ঘনিষ্ঠভাবে পরিচিত হওয়ার, কাছ থেকে দেখার ও মেশার সুযোগ হয়েছে। এটা আমার জন্য একটা বড় সম্পদ বলে আমি মনে করি। তাঁর মতো মানুষের কাছে থাকা, কথা বলা, আলাপ—আলোচনা করা–এর মধ্য দিয়ে নিজেকে সমৃদ্ধ করতে পেরেছি বলে আমার কাছে মনে হয়।

 

এদেশে যতদিন পর্যন্ত প্রগতিশীল আন্দোলন টিকে থাকবে, যতদিন পর্যন্ত মানুষের দাবি নিয়ে মানুষ সংগ্রাম করবে, ততদিন কমরেড মুবিনুল হায়দার চৌধুরী অমর হয়ে থাকবেন। এই বিশ্বাস আমার আছে। তাঁর প্রতি পুনর্বার আমার গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করছি।

RELATED ARTICLES

আরও

Recent Comments