চুয়েটে চলমান অচলাবস্থা নিরসন এবং শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি
গত ২১ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে অপসারণ করে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
এরপর থেকে অধ্যাপক আবু সাদাতকে পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থী-শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা গণস্বাক্ষর সংগ্রহ, ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন, অবস্থান কর্মসূচিসহ নানাভাবে আন্দোলন করে আসছেন। শিক্ষক এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও কর্মবিরতিসহ নানা কর্মসূচি পালন করছেন। এই আন্দোলনের কারণে দায়িত্ব গ্রহণের পরও ক্যাম্পাসে আসতে পারছিলেন না নতুন উপাচার্য। সম্প্রতি ছাত্রদল নেতাদের নিয়ে উপাচার্য ভবনে শিক্ষার্থীদের দেওয়া তালা ভেঙে নিজ দপ্তরে যান নবনিযুক্ত উপাচার্য। সেখানে তিনি দীর্ঘ ২৩ ঘন্টা অবরুদ্ধ অবস্থায় থাকার পর ক্যাম্পাসে না ফেরার শর্তে বেরিয়ে যান।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় সভাপতি সালমান সিদ্দিকী এবং সাধারণ সম্পাদক রাফিকুজ্জামান ফরিদ এক যুক্ত বিবৃতিতে বলেন, “চুয়েটে উপাচার্য নিয়োগকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রায় একমাস ধরে আন্দোলন করছেন। পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থবির হয়ে আছে এবং ক্লাস-পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। ফলে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে। অন্তত ছয়টি বিভাগের ফাইনাল পরীক্ষা অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। সেশনজট ও শিক্ষাবর্ষ দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অবিলম্বে এই অচলাবস্থা কাটিয়ে শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে কর্তৃপক্ষকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।”
নেতৃবন্দ আরও বলেন, “শুধু চুয়েটেই নয়, গণঅভ্যুত্থানের পর সবগুলো বিশ্ববিদ্যালয়েই উপাচার্য নিয়োগসহ প্রশাসনিক পদগুলোতে নিয়োগের ক্ষেত্রে যথাযথ নিয়ম-কানুন মানা হয়নি, দলীয়করণ করা হয়েছে। যা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন এবং বিদ্যায়তনিক স্বাধীনতার জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। নিয়ম-কানুনের তোয়াক্কা না করে দলীয় নিয়োগ, আন্দোলনের মুখে সরকার দলীয় ছাত্র সংগঠনের আশ্রয় নেওয়া এসব পতিত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ের চিত্র। এখনও এসবের পুনরাবৃত্তি চলছে, যা গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার সম্পূর্ণ বিপরীত।”
চুয়েটের অচলাবস্থা নিরসন ও শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি ছাত্র ফ্রন্টের
RELATED ARTICLES
