Saturday, February 24, 2024
Homeসংবাদ ও প্রেস বিজ্ঞপ্তিপার্টি সংবাদসাম্রাজ্যবাদবিরোধী, সেক্যুলার, গণতান্ত্রিক চেতনাসম্পন্ন মানুষ মোদিকে স্বাগত জানাতে পারেনা

সাম্রাজ্যবাদবিরোধী, সেক্যুলার, গণতান্ত্রিক চেতনাসম্পন্ন মানুষ মোদিকে স্বাগত জানাতে পারেনা

মোদি সফরের মধ্য দিয়ে কী পেল বাংলাদেশ?

পুঁজিপতিদের মুনাফার স্বার্থে নয়-
কৃষি, স্বাস্থ্য, পরিবহন, কর্মসংস্থানসহ জনগণের বেঁচে থাকার মৌলিক অধিকার বাস্তবায়ন করতে হবে

cpi-m-logo_1সম্প্রতি বাংলাদেশ সফর করে গেলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শাসকগোষ্ঠি যেন এক ভিন্ন রূপ ধারণ করল। পদ্মা-মেঘনা-যমুনা বিধৌত এই দেশের ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মধ্য দিয়ে। সিয়াটো-সেন্ট্রো, ভিয়েতনাম ও প্যালেস্টাইন থেকে শুরু করে ইরাক-আফগানিস্তান-সিরিয়ায় সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন প্রভৃতির বিরুদ্ধে লড়ে লড়েই বাঙালীর মনন কাঠামো গড়ে উঠেছে। তাই দেশের মানুষ ভারতীয় সাম্রাজ্যবাদের প্রতিনিধি নরেন্দ্র মোদির কথার মোহে আচ্ছন্ন হওয়ার কথা নয়। আবার নরেন্দ্র মোদি ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ঘটিয়ে সারা বিশ্বে নিন্দিত একজন মানুষ। লক্ষণীয়, বাংলাদেশের চিনিশিল্প ভারতের হাতে তুলে দেয়ার পরও সম্প্রতি ভারতের আখচাষীরা আত্মহত্যা করছে। অর্থাৎ ভারতের বুর্জোয়াদের স্বার্থে ভারতের জনগণকে নিঃস্ব করার ক্ষেত্রে মোদি একজন দক্ষ পরিকল্পনাকারী। সেকারণে, এদেশের সাম্রাজ্যবাদবিরোধী, সেক্যুলার, গণতান্ত্রিক চেতনাসম্পন্ন মানুষ মোদিকে স্বাগত জানাতে পারেনা। অথচ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যখন ঢাকা সফরে উদ্যত তখন সরকার সামান্য কর্মসূচীও সহ্য না করে গণতান্ত্রিক বাম মোর্চার নেত্রী মোশরেফা মিশুকে গৃহবন্দী করল, গণমুক্তি কাউন্সিলের তিন নেতা কর্মী, বাসদ (মার্কসবাদী) এর তিন নেতা কর্মীকে আটক করে হাজতে পুরলো। এরকম এদেশে আর কখনও হয়নি। অল্প কিছু বামপন্থী দল ছাড়া প্রায় সকল রাজনৈতিক দল নরেন্দ্র মোদির সামনে নতমস্তকে দাঁড়িয়েছিলেন। অথচ মোদি এই সফরের মধ্য দিয়ে কী পেল বাংলাদেশ থেকে? এ সফরে মোদি ভারতের একচেটিয়া কর্পোরেট পুঁজির মালিকদের স্বার্থে ‘কানেকটিভিটি’, বিনা শুল্কে ভারতের ২৩টি পণ্যের বাংলাদেশে প্রবেশ, ট্রান্সশিপমেন্টের নামে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দর ব্যবহারের সুযোগ, বাংলাদেশের সমুদ্রে সম্পদ আহরণ, দায়মুক্তি আইন করে বিদ্যুৎ খাতে ভারতীয় বৃহৎ পুঁজিপতিদের সাথে বিনিয়োগের চুক্তি – প্রায় সবই করে গেলেন। এতে বাংলাদেশের উপর ভারতের সাম্রাজ্যবাদী কর্তৃত্ব আরও পাকাপোক্ত হলো। অথচ নরেন্দ্র মোদি ঐতিহাসিক ও প্রাকৃতিক ন্যায্যতা এবং সমতার ভিত্তিতে তিস্তা-পদ্মাসহ বাংলাদেশ ও ভারতের উপর দিয়ে প্রবাহিত সকল অভিন্ন আন্তর্জাতিক নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে গেছেন। সীমান্ত হত্যা বন্ধে কোন কার্যকর পদক্ষেপ নেননি। এ পরিস্থিতি দেশেপ্রেমিক মানুষকে একটা অবমাননা বোধে নিক্ষেপ করেছে।

দেশের মানুষের দুর্দশার প্রধান কারণ, এ রাষ্ট্র পুঁজিপতি শ্রেণীর রাষ্ট্র। এ সরকার ধনিক শ্রেণীর সরকার। সরকারী ব্যবস্থাপনায় মুষ্টিমেয় পুঁজিপতি শ্রেণীর স্বার্থ সিদ্ধির লক্ষ্যে দেশের প্রধান খাত কৃষিকে সাম্রাজ্যবাদ নির্ভর করে জমিতে প্রান্তিক কৃষককে টিকতে দিচ্ছে না। বাংলাদেশের শস্যভান্ডার হিসাবে খ্যাত উত্তরবঙ্গ প্রায়শই উত্তাল হয়ে উঠছে। তাদের উৎপাদিত আলুসহ বিভিন্ন সব্জী সংরক্ষণের আয়োজন না থাকায় উৎপাদন খরচেরও অনেক কম দামে তা বিক্রি করতে হয়। বাজারে তার মূল্য এতই পড়ে যায় যে কৃষকের ঘরে ঘরে হাহাকার সৃষ্টি হয়। উৎপাদনের খরচ না উঠায় বছরের পর বছর লোকসান গুণতে গুণতে ক্রমেই নিঃস্ব, সর্বহারা হয়ে, গ্রাম থেকে উচ্ছেদ হয়ে শহরে ভীড় জমাচ্ছে হাজার হাজার কৃষক।

দেশে গরীব মানুষের জন্য স্বাস্থ্য ব্যবস্থা বলে কিছু নেই। একদিকে রংবেরং এর প্রাইভেট ক্লিনিক, হাসপাতালে মধ্যবিত্ত মানুষ স্বাস্থ্যসেবা নিতে গিয়ে সর্বশান্ত হচ্ছে আর অপরদিকে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসক, ঔষধ, স্বাস্থ্য পরিচর্যা বলে কিছু নেই। শিক্ষাখাত অত্যন্ত দুর্দশাগ্রস্ত। আমাদের দেশের শিক্ষামন্ত্রী স্বয়ং এ কথা বলেছেন যে, বাংলাদেশ ছাড়া পৃথিবীতে শিক্ষার জন্য এত কম বরাদ্দের আর একটি দেশও নেই। অথচ সুদুর অতীতকাল থেকে বাংলাদেশের মানুষ শিক্ষা অনুরাগী। এখানে সর্বনিম্ন আয়ের একজন মানুষও তার সন্তানকে শিক্ষিত করার চেষ্টা করে। একেই এখন বিনিয়োগের বড় খাত করেছে ব্যবসায়ীরা।

আরেক ভয়াবহ দৃশ্য দেখতে পাওয়া যাবে পরিবহন ব্যবস্থাপনায়। সরকারের এত উন্নয়নের সাফাই এর পরেও গণ-পরিবহন বলে বাংলাদেশে সুসংগঠিত কোন ব্যবস্থাপনা নেই। বাংলাদেশে রেলের বেশ খানিকটা অবকাঠামো থাকা সত্ত্বেও তাকে আর উন্নত করা হয়নি। বাস থেকে রেলে চলাচল খরচ অনেক কম। গণ-পরিবহনের জন্য রেলের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। অথচ ব্রিটিশ-পাকিস্তান আমলের প্রচলিত বহু রেল সংযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। সাম্রাজ্যবাদী অটোমোবাইল বিক্রেতাদের সাথে এদেশের পরিবহণ মালিকরা যোগসাজশ এর মধ্য দিয়ে সরকারের এর মাধ্যমে সড়ক পরিবহনকে যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম করেছে। বাস-ট্রাক মালিকদের সিন্ডিকেট এখন আর রেলকে বিকশিত হতেই দিচ্ছেনা। মুষ্টিমেয় কিছু ধনী মালিকের স্বার্থের দিকে তাকিয়ে গণ-পরিবহণের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষকে এতবড় দুর্গতির মাঝে নামিয়ে আনার নজির পৃথিবীর অন্য কোথাও খুঁজে পাওয়া যাবেনা।

একবিংশ শতাব্দিতে মানবপাচারের নামে দাস ব্যবসা আমাদের নজরে এলো। বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। দেশের অব্যাহত কর্মসংস্থানের অভাব এই মানুষগুলোকে এই জায়গায় নিয়েছে। অথচ আমাদের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন এসকল দুঃস্থ মানুষদের নাকি শাস্তি পেতে হবে। এদেশের দুঃস্থ মানুষকে সরকার আর শাসকগোষ্ঠি দুঃস্থ হওয়ার অপরাধে আর কতবার শাস্তি দিতে চান। কিন্তু একবারও কি ভেবেছেন এই মানুষগুলোর দুরবস্থার জন্য কে দায়ী? কোন ব্যবস্থা এই দুঃস্থ অবস্থা উৎপন্ন করছে!

দেশের এই সকল সমস্যা-সংকট থেকে উত্তরণের জন্য বাম-গণতান্ত্রিক শক্তির নেতৃত্বে জনগণের বাঁচার অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নিত্যনৈমিত্তিক দাবিদাওয়াভিত্তিক আন্দোলন হবে। এলক্ষ্যে পাড়ায়, পাড়ায় সংগ্রাম কমিটি গড়ে তুলতে হবে। এ প্রক্রিয়ায় একটি সঠিক রাজনৈতিক শক্তির জন্ম দিতে হবে। এর অংশ হিসাবে আগামী ৫-৮ জুলাই বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী) বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীদের রাজনৈতিকভাবে প্রশিক্ষিত ও জ্ঞানার্জনের লক্ষ্যে রাজনৈতিক শিক্ষাশিবির (School of politics) আয়োজন করছে। এটি আয়োজনে একজন বিবেকবান নাগরিক হিসাবে আপনার নৈতিক ও আর্থিক সমর্থন প্রত্যাশা করছি।

শিক্ষাশিবির পরবর্তী ৮ তারিখে নিম্নের দাবিতে সমাবেশ ও পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে –
 জাতীয় উন্নয়ন বাজেটের ৪০% কৃষিখাতে বরাদ্দ দিতে হবে।
 জাতীয় বাজেটের ২৫% শিক্ষাখাতে বরাদ্দ দিতে হবে।
 স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পরিবহন খাতকে বেসরকারিকরণ করা যাবে না। এ খাতসমূহ গণমূখী করার উদ্দেশ্যে ও জনগণের ব্যয় নূন্যতম করার লক্ষ্যে বৃহৎ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।
 সবার জন্য কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে হবে। একজন ব্যক্তিও কর্মহীন থাকতে পারবেনা।
 নারীর উপর সকল ধরণের বৈষম্য ও সহিংসতা বন্ধ করতে হবে।

[divider]

বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী) কেন্দ্রীয় কার্য পরিচালনা কমিটি কর্তৃক প্রকাশিত ও প্রচারিত প্রচারপত্র।
প্রকাশকালঃ ২৪ জুন ২০১৫

RELATED ARTICLES

আরও

Recent Comments