Tuesday, April 14, 2026
Homeফিচারআলুচাষীরা আর কত ঠকবে?

আলুচাষীরা আর কত ঠকবে?

আলুচাষীরা আর কত ঠকবে?

সারের কালোবাজারি বন্ধ কর

আলুর বাজারদর কেজিপ্রতি ৩-৪ টাকাতে নেমেছে এবং দেশজুড়ে বোরো আবাদের জন্য প্রয়োজনীয় সারের সংকট ও দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। আলু আমাদের প্রধান সবজি এবং অর্থকরী ফসল। বিশ্বব্যাপী আলুর চাহিদা ব্যাপক। উত্তরবঙ্গের জমি এবং আবহাওয়া আলু চাষের জন্য বিশেষভাবে উপযোগী। ফলে এই অঞ্চলের কৃষকরা প্রচুর আলু উৎপাদন করে। কিন্তু আলুর বাম্পার ফলন হলেও কৃষক লাভের মুখ দেখতে পারে না। আলু যেহেতু পঁচনশীল সবজি, তাই কৃষক বেশিদিন আলু ঘরে রাখতে পারে না। দ্রুত তাকে আলু বিক্রি করতে হয়। এই সময়ে ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে দাম কমিয়ে দেয়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই কৃষক কোল্ডস্টোরে আলু রাখার চেষ্টা করে। কিন্তু আলুর সিন্ডিকেট ব্যবসায়ী এবং বিভিন্ন কোম্পানি ষ্টোর মালিকদের সাথে যোগসাজশ করে ষ্টোরের বেশিরভাগ জায়গা আগেই বুকিং করে রাখে। ফলে কৃষকরা কোল্ডস্টোরেও জায়গা পায়না। এভাবে ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের সাথে কোল্ডষ্টোর মালিকদের সিন্ডিকেট যুক্ত হয়ে কৃষককে পানির দরে আলু বিক্রি করতে বাধ্য করে। এবছর আলুর দামে আবার ধস নেমেছে। এক কেজি আলুর দাম এক কাপ চায়ের দামের চেয়ে কম। অথচ সার, বীজ, সেচ ও শ্রমিকের মজুরি মিলিয়ে প্রতি কেজি আলু উৎপাদনে চাষীর খরচ হয়েছে ১৭ থেকে ১৮ টাকা। গত কয়েকবছর ধরে এভাবে লোকসান করতে করতে আলুচাষীরা আলুচাষের আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন এলাকায় আলুর পরিবর্তে কৃষকগণ তামাক চাষ শুরু করেছে। যা আমাদের কৃষির জন্য অশনিসংকেত। এই আলু বিদেশ থেকে আমদানি করলে কয়েকগুন বেশি দামে জনগণকে তা কিনে খেতে হবে। প্রশাসনের তদারকির অভাবে গতবছর কোল্ডষ্টোর মালিকরা রাতারাতি আলুর ভাড়া দ্বিগুন করে দিয়েছে। এক বস্তা আলুর ষ্টোর ভাড়া ছিলো ২৮০ টাকা, গতবছর তা বাড়িয়ে একই পরিমাণ আলু রাখার জন্য স্টোরভাড়া ৫৬০ টাকা করা হয়েছে। এভাবে খরচ বৃদ্ধি এবং দাম কমে যাওয়ায় আলুচাষীরা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

অপরদিকে চলমান বোরো মৌসুমে দেশজুড়ে সারের সংকট ও দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। অনেক জায়গায় কেজিপ্রতি ৮-১০ টাকা বেশি নিচ্ছে। প্রতিটা ফসলের মৌসুমে সারের ডিলার এবং ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দ্বিগুন, তিনগুন দামে কৃষককে সার কিনতে বাধ্য করে। প্রশাসন বিভিন্ন স্থানে নামমাত্র অভিযান পরিচালনা করলেও তা কাজে আসছে না। কালোবাজারি ও সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে কৃষক আরও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। গণঅভ্যুত্থান পরবর্তীতে সারের কালোবাজারি বন্ধ বা আলুর দাম বৃদ্ধিতে কার্যকর কোন পদক্ষেপ পরিলক্ষিত হয় নাই।

RELATED ARTICLES

আরও

Recent Comments