
গুলশান হত্যাকান্ড, শোলাকিয়া হামলাসহ সারাদেশে অব্যাহত গুপ্তহত্যার বিচার ও ধর্মের নামে মানুষ হত্যা বন্ধের দাবিতে গণতান্ত্রিক বাম মোর্চা চট্টগ্রাম জেলা শাখার উদ্যোগে আজ নগরীতে এক বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বিকেল ৪.৩০ টায় নগরীর নিউমার্কেট চত্বরে গণসংহতি আন্দোলনের চট্টগ্রাম জেলার সমন্বয়ক হাসান মারুফ রুমির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাসদ (মার্কসবাদী) চট্টগ্রাম জেলার সদস্য শফিউদ্দিন কবির আবিদ, রফিকুল হাসান, আসমা আক্তার, ছাত ফেডরেশন চট্টগ্রাম জেলার সভাপতি শওকত আলী প্রমুখ।
নেতৃবৃন্দ বলেন, “ধর্মীয় শাসন প্রতিষ্ঠার শ্লোগান তুলে যারা নিরপরাধ মানুষকে খুন করে তারা চূড়ান্ত মানবতাবিরোধী শক্তি। বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের সাথে এদের কোন সম্পর্ক নেই এবং এদেশের অধিকাংশ মানুষ বরাবরই তাদের প্রত্যাখ্যান করে এসেছে।”
নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, “দেশে বর্তমানে যে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে তার দায় মহাজোট সরকার এড়াতে পারে না। এখনো সরকার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের চিহ্নিত না করে দলীয় স্বার্থে ব্লেইম গেইম ও রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের খেলা খেলছে। বাংলাদেশের বর্তমান জঙ্গী উত্থান বিশ্ব পরিস্থিতি থেকে বিচ্ছিন্ন নয়। সাম্রাজ্যবাদীরাই বিভিন্ন সময় মৌলবাদী সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সৃষ্টি করেছে, মদত দিয়েছে, অস্ত্র- প্রশিক্ষণ- অর্থ দিয়েছে। সাম্রাজ্যবাদবিরোধী লড়াই মনে করে এসব সন্ত্রাসী গ্রুপ বাস্তবে জ্ঞাতে-অজ্ঞাতে সাম্রাজ্যবাদীদের পরিকল্পনাই বাস্তবায়ন করছে।”
নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, “শাসকগোষ্ঠী সবসময় জঙ্গীবাদের সমস্যা নিজেদের রাজনৈতিক হীন স্বার্থে কাজে লাগানোর চেষ্টা করেছে এবং সঠিক সময়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের পরিবর্তে একে প্রশ্রয় দিয়েছে। সর্বোপরি, এদেশের শাসকগোষ্ঠী সবসময় নিজেদের গণবিরোধী শাসন আড়াল করতে ধর্মকে রাজনীতিতে ব্যবহার করেছে, মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িকতাকে মদত দিয়েছে, কূপমন্ডুক মাদ্রাসা শিক্ষার বিস্তার ঘটিয়েছে। অথচ, আমাদের মুক্তিযুদ্ধের অঙ্গীকার ছিল ধর্মনিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের যেখানে ‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার’। জঙ্গীবাদের সমস্যা কার্যকরভাবে মোকাবেলা করতে আজ তাই প্রয়োজন মৌলবাদ-সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে আদর্শগত ও সাংস্কৃতিক সংগ্রাম, সর্বোপরি গণতান্ত্রিক সমাজ-সংস্কৃতি এবং বিজ্ঞানভিত্তিক যুক্তিবাদী শিক্ষাব্যবস্থার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম বেগবান করা।”
সমাবেশ থেকে বর্তমান পরিস্থিতিতে ধর্মীয় মৌলবাদ ও রাষ্ট্রীয় ফ্যাসিবাদ উভয়ের বিরুদ্ধে শাসকগোষ্ঠী ও কায়েমী স্বার্থের প্রভাবমুক্ত সকল বাম-গণতান্ত্রিক-ধর্মনিরপেক্ষ-অসাম্প্রদায়িক শক্তি ও জনগণের প্রতি আমরা ঐক্যবদ্ধ গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়।
সমাবেশ শেষে একটি মিছিল নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
