Tuesday, April 14, 2026
Homeফিচারআলুর লাভজনক দাম ও ভর্তুকি মূল্যে সার পাওয়ার নিশ্চয়তার দাবিতে রংপুরে কৃষকদের...

আলুর লাভজনক দাম ও ভর্তুকি মূল্যে সার পাওয়ার নিশ্চয়তার দাবিতে রংপুরে কৃষকদের বিক্ষোভ

আলুর লাভজনক দাম নিশ্চিত করা এবং সার নিয়ে দুর্নীতি, কালোবাজারী বন্ধ করে ভর্তুকি মূল্যে কৃষকের সার পাওয়ার নিশ্চয়তার দাবিতে রংপুরে কৃষক সংগঠনের বিক্ষোভ

গতকাল ৮ মার্চ ২০২৬ রবিবার সকাল ১১ টায় রংপুর প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে আলুর লাভজনক দাম নিশ্চিত করা এবং সার নিয়ে দুর্নীতি, কালোবাজারী বন্ধ করে ভর্তুকি মূল্যে কৃষকের সার পাওয়ার নিশ্চয়তার দাবিতে বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর ও কৃষক সংগঠন রংপুর জেলার উদ্যোগে মানববন্ধন সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনের জেলা আহ্বায়ক কমরেড আনোয়ার হোসেন বাবলুর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক কমরেড আহসানুল আরেফিন তিতু, আলুচাষী এমদাদুল হক বাবু,আবুল কাশেম প্রমূখ।

নেতৃবৃন্দ বলেন আলুর বাজারদর কেজিপ্রতি ৩-৪ টাকাতে নেমেছে এবং দেশজুড়ে বোরো আবাদের জন্য প্রয়োজনীয় সারের সংকট ও দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। আলু আমাদের প্রধান সবজি এবং অর্থকরী ফসল।বিশ্বব্যাপী আলুর চাহিদা ব্যাপক। উত্তরবঙ্গ বিশেষ করে রংপুরের জমি এবং আবহাওয়া আলু চাষের জন্য বিশেষভাবে উপযোগী। ফলে এই অঞ্চলের কৃষকরা প্রচুর আলু উৎপাদন করে। কিন্তু আলুর বাম্পার ফলন হলেও কৃষক লাভের মুখ দেখতে পারে না। আলু যেহেতু পঁচনশীল সবজি,তাই কৃষক বেশিদিন আলু ঘরে রাখতে পারে না। দ্রুত তাকে আলু বিক্রি করতে হয়।এই সময়ে ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট আলুর বাজারে ধস নামিয়ে দেয়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই কৃষক কোল্ডষ্টোরে আলু রাখার চেষ্টা করে। কিন্তু আলুর সিন্ডিকেট ব্যবসায়ী এবং বিভিন্ন কোম্পানি ষ্টোর মালিকদের সাথে যোগসাজশ করে ষ্টোরের বেশিরভাগ জায়গা আগেই বুকিং করে রাখে।ফলে কৃষকরা কোল্ডষ্টোরেও জায়গা পায়না। এভাবে ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের সাথে কোল্ডষ্টোর মালিকদের সিন্ডিকেট যুক্ত হয়ে কৃষককে পানির দরে আলু বিক্রি করতে বাধ্য করে। এবছর আলুর দামে আবার ধস নেমেছে। এক কেজি আলুর দাম এক কাপ চায়ের দামের চেয়ে কম। অথচ সার,বীজ,সেচ ও শ্রমিকের মজুরি মিলিয়ে প্রতি কেজি আলু উৎপাদনে চাষীর খরচ হয়েছে ১৭ থেকে ১৮ টাকা। গত কয়েকবছর ধরে এভাবে লোকসান করতে করতে আলুচাষীরা আলুচাষের আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন এলাকায় আলুর পরিবর্তে কৃষকগণ তামাক চাষ শুরু করেছে।যা আমাদের কৃষির জন্য অশনিসংকেত। এই আলু বিদেশ থেকে আমদানি করলে কয়েকগুন বেশি দামে জনগণকে তা কিনে খেতে হবে। প্রশাসনের তদারকির অভাবে গতবছর কোল্ডষ্টোর মালিকরা রাতারাতি আলুর ভাড়া দ্বিগুন করে দিয়েছে। এক বস্তা আলুর ষ্টোর ভাড়া ছিলো ২৮০ টাকা, গতবছর তা বাড়িয়ে একই পরিমাণ আলু রাখার জন্য স্টোরভাড়া বাড়িয়ে ৫৬০ টাকা করা হয়েছে। এভাবে খরচ বৃদ্ধি এবং দাম কমে যাওয়ায় আলুচাষীরা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

অপরদিকে চলমান বোরো মৌসুমে দেশজুড়ে সারের সংকট ও দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। অনেক জায়গায় কেজিপ্রতি ৮-১০ টাকা বেশি নিচ্ছে। প্রতিটা ফসলের মৌসুমে সারের ডিলার এবং ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দ্বিগুন, তিনগুন দামে কৃষককে সার কিনতে বাধ্য করে। প্রশাসন বিভিন্ন স্থানে নামমাত্র অভিযান পরিচালনা করলেও তা কাজে আসছে না। কালোবাজারি ও সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে কৃষক আরও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। নেতৃবৃন্দ আরও বলেন

গণঅভ্যুত্থান পরবর্তীতে আমরা আশা করেছিলাম কৃষকদের অধিকার রক্ষায় রাষ্ট্র আরও বেশি মনযোগী হবে। কিন্তু আমরা দেখছি কৃষক তার ফসলের ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, কৃষি উপকরণের দাম বাড়ছে।

তাই কৃষি ও কৃষক রক্ষায় আলুর ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত এবং সারের সংকট ও দাম বৃদ্ধি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন বলে প্রত্যাশা করছি।

 

দাবিসমূহঃ

১. আলুর ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে সরকারি উদ্যোগে আলু ক্রয়-বিক্রয় ও রপ্তানি করতে হবে। সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

২. সারের দূর্নীতি, কালোবাজারী বন্ধ করে ভর্তুকি মূল্যে কৃষকের সার প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে হবে।

৩. প্রতি কেজি আলুর ভাড়া ৮ টাকা বাতিল করে ১.৫০ টাকা নির্ধারণ কর। অগ্রিম বুকিং এর নামে বস্তা প্রতি ১০০ টাকা আদায় বন্ধ কর।

৪.অবিলম্বে সরকারি উদ্যোগে প্রতি উপজেলায় বিশেষায়িত বীজ হিমাগার নির্মাণ কর। সকল হিমাগারে প্রকৃত কৃষকের জন্য ৬০ ভাগ জায়গা বরাদ্দ বাধ্যতামূলক করতে হবে।

৫. লাভজনক দামে আলু বিক্রি করতে না পারা কৃষকদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

RELATED ARTICLES

আরও

Recent Comments