Saturday, April 18, 2026
Homeফিচারচট্টগ্রাম-১০ আসনে বাসদ (মার্কসবাদী) মনোনীত প্রার্থী আসমা আক্তার-এর নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত

চট্টগ্রাম-১০ আসনে বাসদ (মার্কসবাদী) মনোনীত প্রার্থী আসমা আক্তার-এর নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত

চট্টগ্রাম-১০ আসনে বাসদ (মার্কসবাদী) মনোনীত প্রার্থী আসমা আক্তার-এর নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত

আসন্ন সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম -১০ আসনে গণতান্ত্রিক যুক্ত ফ্রন্ট সমর্থিত ও বাসদ (মার্কসবাদী) মনোনীত প্রার্থী আসমা আক্তার এর সমর্থনে আজ ৩০ জানুযারি, বিকাল ৪ টায় ষোলশহর রেল স্টেশন চত্বরে এক নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। আসমা আক্তারের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সভাপতি হাফিজুর রহমান খোকনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম-১০ আসনে গণতান্ত্রিক যুক্ত ফ্রন্ট সমর্থিত ও বাসদ (মার্কসবাদী) মনোনীত প্রার্থী আসমা আক্তার, বাসদ (মার্কসবাদী) চট্টগ্রাম জেলা সমন্বয়ক ও চট্টগ্রাম -৯ আসনে দলের প্রার্থী এড. শফি উদ্দিন কবির আবিদ,নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব নীতিশ দাশ, বর্ষিয়ান সদস্য সিদ্দিক মিঞা, আয়েশা আক্তার সুমি। সমাবেশ পরিচালনা করেন বাসদ (মার্কসবাদী) জেলা কমিটির সদস্য রিপা মজুমদার।

“অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এমূহুর্তে একমাত্র কাজ ছিল, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কঠোরভাবে নিযন্ত্রণ করে জনমনে নিরাপত্তাহীনতা,আশঙ্কা দূর করে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করা।অথচ এক্ষেত্রে তারা ব্যর্থ। একাজে পুরো মনোযোগ না দিয়ে সরকার নির্বাচন নিয়ে জনগণের মনোযোগের সুযোগ নিয়ে বিদেশের সাথে একের পর এক চুক্তি করছে, যার ন্যূনতম কোনো জবাবদিহিতা,স্বচ্ছতা নেই। চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং টার্মিনাল ডিপি ওয়ার্ল্ডের সাথে লিজ চুক্তি প্রক্রিয়া সমস্ত নিয়ম-নীতি উপেক্ষা করে গোপনে অগ্রসর করা হচ্ছে। অথচ নির্বাচনের কয়েক সপ্তাহ আগে পৃথিবীর কোনো দেশে এ ধরণের জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট চুক্তি করার অধিকার নেই।ইতোমধ্যেই চট্টগ্রাম বন্দরের শ্রমিকরা ফুঁসে উঠেছে,তারা কর্মবিরতি আহবান করেছে।নির্বাচনের আগে বন্দর লিজের চুক্তি করার মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করা হচ্ছে,এটা নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র কিনা তা খতিয়ে দেখতে হবে।আমরা সরকারকে হুঁশিয়ারি দিতে চাই,অবিলম্বে বন্দর লিজ প্রক্রিয়া থেকে সরে আসুন,নির্বাচনের পরিবেশ তৈরিতে মনোযোগ দিন।”

গণতান্ত্রিক যুক্ত ফ্রন্ট সমর্থিত ও বাসদ (মার্কসবাদী) মনোনীত প্রার্থী আসমা আক্তার এর সমর্থনে নির্বাচনী জনসভায় প্রধান বক্তা হিসেবে বাসদ (মার্কসবাদী) সমন্বয়ক কমরেড মাসুদ রানা আজ এ বক্তব্য রাখেন।

কমরেড মাসুদ রানা বলেন,“ জুলাই সনদ প্রসঙ্গে আমরা নীতিগতভাবে গণভোটকে সমর্থন করেছিলাম। কিন্তু পরবর্তীতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন যেভাবে সাংবিধানিক সংস্কারগুলোকে চারটি প্রশ্নের একটি প্যাকেজের মধ্যে এনে পুরো প্যাকেজের উপরেই ‘হ্যাঁ/না’ ভোটের সিদ্ধান্ত নেয়- তা পুরোপুরি অগণতান্ত্রিক। কেউ চারটি প্রশ্নে উল্লেখিত পয়েন্টের কয়েকটির সাথে একমত বা দ্বিমত পোষণ করতে পারেন। সবগুলোর সাথে একমত কিন্তু কোন একটি প্রস্তাবের সাথে দ্বিমত হলেও যে কোন মানুষের সেই মত প্রকাশের অধিকার আছে। কিন্তু এই গণভোটে তাকে সেই সুযোগ দেয়া হয়নি। ফলে যে প্রক্রিয়ায় এই গণভোটের আয়োজন করা হচ্ছে, সেই প্রক্রিয়াকে আমরা সঠিক মনে করি না। এতে মানুষের মতামতের যথার্থ প্রতিফলন ঘটবে না। গত পনের বছর ধরে আওয়ামী লীগ সরকার যে ফ্যাসিবাদী শাসন চালিয়েছে তা থেকে মুক্তির জন্য জনগণ এই নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে আছে ঠিক, কিন্তু এও ঠিক যে নির্বাচনের মাধ্যমেই এই আকাঙ্ক্ষিত মুক্তি আসবে না। দুঃশাসন থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্যই মানুষ ২০০৮ সালে বিপুল ভোটে আওয়ামী লীগকে বিজয়ী করেছিল। কিন্তু মুক্তি আসেনি, তার পরিবর্তে আরও বড় দুঃশাসন মানুষের উপর চেপে বসেছে। তাই মুক্তি পেতে ভোট নয়, সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার মানুষকে নিজ নিজ জায়গা থেকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে জনজীবনের বিভিন্ন জ্বলন্ত সমস্যা সমাধানের দাবিতে গণআন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। জনতা আন্দোলনমুখী হলে কোন অন্যায় সিদ্ধান্ত তাদের উপর জোর করে চাপিয়ে দেয়া যায় না।“

তিনি বাসদ (মার্কসবাদী) প্রার্থীদের কাঁচি মার্কায় ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করার আহবান জানিযে বলেন,“ জীবনের বিনিময়ে আমরা এই ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পেয়েছি। বিগত ৫৪ বছরে যে সরকারই ক্ষমতায় এসেছে কেউই জনগণের স্বার্থরক্ষা করেনি।মহান মুক্তিযুদ্ধে জনগণের আকাঙ্ক্ষা ছিল শোষণ-বৈষম্যহীন একটা দেশের। জনগণের সে আকাঙ্ক্ষার সাথে ৫৪ বছরে ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ, বিএনপি, জাতীয়পার্টি, জামাত কেউ পূরণ করেনি।চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আবার আমাদের সামনে একটা সুযোগ এসেছিল রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক রূপান্তরের। সেই আশা আজ ম্রিয়মান। অন্তবর্তী সরকারও জনজীবনের সমস্যা সমাধানে ভূমিকা রাখতে পারেনি। ব্যবসায়ীদের স্বার্থেই সিদ্ধান্ত প্রণয়ন করছে। মব সন্ত্রাস, মাজারে হামলা, ভিন্নমতের উপর আক্রমণ, ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের উপর হামলা সরকার বন্ধ করতে পারেনি। এর মধ্য দিয়ে অভিজ্ঞতা হলো,ফ্যাসিবাদ শুদু কোনো দল আনেনা, এটি পুঁজিবাদী ব্যবস্থার ফলাফল। ফলে ক্ষমতার পালাবদলে ফ্যাসিবাদের বিলোপ হবেনা, এর জন্য ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন। শুধু ভোটের মাধ্যমে এ সংকটের সমাধান হবেনা, এজন্য প্রয়োজন কাজ-মজুরি-শিক্ষা-স্বাস্থ্যের অধিকারসহ জনজীবনের সংকট নিরসনে গণআন্দোলনের শক্তি গড়ে তোলাসদ। গণআন্দোলনই জনগণের অধিকার রক্ষার একমাত্র গ্যারান্টি। সেই গণ-আন্দোলনের শক্তিকে বিকশিত করতেই আমরা নির্বাচনে লড়ছি। আপনারা জনগণের পক্ষে দীর্ঘদিন লড়াই করা, পরীক্ষিত কমরেড আসমা আক্তারকে কাঁচি প্রতীকে ভোট দিয়ে গণান্দোলনের শক্তিকে বিকশিত করুন।”

সমাবেশে আসমা আক্তার ভোটারদের উদ্দেশ্যে বলেন,”মার্কা দেখে নয়, দল ও প্রার্থীর নীতি-আদর্শ বিচার করে ভোট দিন। যারা নির্বাচনে কোটি কোটি টাকা খরচ করে, ভোট নিতে ধর্মের ব্যবহার করে, ধনীদের স্বার্থ দেখে – তাদের ভোট দিলে তারা হয়তো জিতবে, কিন্তু আপনি কি জিতবেন? জনগণের পক্ষের লড়াইয়ের শক্তি হিসেবে, জনগণের অধিকারের দাবিতে বিগত সময়ে রাজপথে সোচ্চার থাকা, জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ-সৎ-নিঃস্বার্থ এবং বাসদ (মার্কসবাদী) মনোনীত প্রার্থী হিসেবে আমাকে জয়যুক্ত করুন। আমাকে ভোট দিয়ে ও ভোটের খরচ যুগিয়ে গণ-আন্দোলনের শক্তিকে বিকশিত করুন।“

এর পর আসমা আক্তারের সমর্থনে ষোলশহর এলাকায় গণসংযোগ ও প্রচার মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

RELATED ARTICLES

আরও

Recent Comments