Saturday, April 18, 2026
Homeফিচারচট্টগ্রাম-১১ আসনে বাসদ (মার্কসবাদী) মনোনীত প্রার্থী দীপা মজুমদার-এর নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত

চট্টগ্রাম-১১ আসনে বাসদ (মার্কসবাদী) মনোনীত প্রার্থী দীপা মজুমদার-এর নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত

চট্টগ্রাম-১১ আসনে বাসদ (মার্কসবাদী) মনোনীত প্রার্থী দীপা মজুমদার-এর নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১১ আসনে বাসদ (মার্কসবাদী) মনোনীত প্রার্থী দীপা মজুমদার এর সমর্থনে আজ ৩১ জানুযারি, বিকাল ৪ টায় ইপিজেড বে শপিং চত্বরে এক নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। চট্টগ্রাম-১১ আসনে প্রার্থী দীপা মজুমদারের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সমন্বয়ক জাহেদুন নবী কনকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম-১১ আসনে বাসদ (মার্কসবাদী) মনোনীত প্রার্থী দীপা মজুমদার, বাসদ (মার্কসবাদী) চট্টগ্রাম জেলা সমন্বয়ক এড শফি উদ্দিন কবির আবিদ, পুষ্পিতা নাথ।

“গত ৫৪ বছরে ক্ষমতার পালাবদলে দেশের জনগণের ভাগ্য পরিবর্তন হয়নি। কারণ যারা ক্ষমতায় ছিল,তাদের রাজনীতি ছিল বিদ্যমান শোষণমূলক ব্যবস্থা বহাল রাখার পক্ষে।একারণেই মুক্তিযুদ্ধ,নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থান,চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে এত জীবনদানের পরও বৈষম্যের অবসান হযনি। তাই শুধু ভোট দিয়ে অবস্থার পরিবর্তন হবেনা,চাই ব্যবস্থার পরিবর্তন। সে লড়াইকে শক্তিশালী করার জন্যই আমরা নির্বাচনে লড়ছি।চট্টগ্রাম-১১ আসনে বাসদ (মার্কসবাদী) মনোনীত প্রার্থী দীপা মজুমদারকে কাঁচি মার্কায় ভোট দিয়ে সে গণআন্দোলন গড়ে তোলার শক্তিকে বিকশিত করুন।“

চট্টগ্রাম -১১ আসনে বাসদ (মার্কসবাদী) মনোনীত প্রার্থী দীপা মজুমদার এর সমর্থনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান বক্তা হিসেবে বাসদ (মার্কসবাদী) সমন্বয়ক কমরেড মাসুদ রানা আজ এ বক্তব্য রাখেন।

কমরেড মাসুদ রানা চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং টার্মিনাল ডিপি ওয়ার্ল্ডের সাথে লিজ চুক্তি প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম বন্দরের শ্রমিক কর্মচারীদের কর্মবিরতি ও আন্দোলনের সাথে সংহতি জানিয়ে বলেন, “সমস্ত নিয়ম-নীতি উপেক্ষা করে গোপনে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং টার্মিনাল ডিপি ওয়ার্ল্ডের সাথে লিজ দেওয়ার চুক্তি প্রক্রিয়া অগ্রসর করা হচ্ছে। অথচ নির্বাচনের কয়েক সপ্তাহ আগে এধরণের জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট কোনো চুক্তি করার অধিকার বর্তমান সরকারের নেই।ইতোমধ্যেই চট্টগ্রাম বন্দরের শ্রমিকরা ফুঁসে উঠেছে,তারা কর্মবিরতি আহবান করেছে।নির্বাচনের আগে বন্দর লিজের চুক্তি করার মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করা এবং এর পেছনে নির্বাচন বানচালের কোনো ষড়যন্ত্র আছে কিনা,সে প্রশ্ন উঠেছে।”

কমরেড মাসুদ রানা বলেন, “জুলাই সনদ প্রসঙ্গে আমরা নীতিগতভাবে গণভোটকে সমর্থন করেছিলাম। কিন্তু পরবর্তীতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন যেভাবে সাংবিধানিক সংস্কারগুলোকে চারটি প্রশ্নের একটি প্যাকেজের মধ্যে এনে পুরো প্যাকেজের উপরেই ‘হ্যাঁ/না’ ভোটের সিদ্ধান্ত নেয়- তা পুরোপুরি অগণতান্ত্রিক। কেউ চারটি প্রশ্নে উল্লেখিত পয়েন্টের কয়েকটির সাথে একমত বা দ্বিমত পোষণ করতে পারেন। সবগুলোর সাথে একমত কিন্তু কোন একটি প্রস্তাবের সাথে দ্বিমত হলেও যে কোন মানুষের সেই মত প্রকাশের অধিকার আছে। কিন্তু এই গণভোটে তাকে সেই সুযোগ দেয়া হয়নি। ফলে যে প্রক্রিয়ায় এই গণভোটের আয়োজন করা হচ্ছে, সেই প্রক্রিয়াকে আমরা সঠিক মনে করি না। এতে মানুষের মতামতের যথার্থ প্রতিফলন ঘটবে নাা।

গত পনের বছর ধরে আওয়ামী লীগ সরকার যে ফ্যাসিবাদী শাসন চালিয়েছে তা থেকে মুক্তির জন্য জনগণ এই নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে আছে ঠিক, কিন্তু এও ঠিক যে নির্বাচনের মাধ্যমেই এই আকাঙ্ক্ষিত মুক্তি আসবে না। দুঃশাসন থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্যই মানুষ ২০০৮ সালে বিপুল ভোটে আওয়ামী লীগকে বিজয়ী করেছিল। কিন্তু মুক্তি আসেনি, তার পরিবর্তে আরও বড় দুঃশাসন মানুষের উপর চেপে বসেছে। তাই মুক্তি পেতে ভোট নয়, সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার মানুষকে নিজ নিজ জায়গা থেকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে জনজীবনের বিভিন্ন জ্বলন্ত সমস্যা সমাধানের দাবিতে গণআন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। জনতা আন্দোলনমুখী হলে কোন অন্যায় সিদ্ধান্ত তাদের উপর জোর করে চাপিয়ে দেয়া যায় না।“

তিনি বাসদ (মার্কসবাদী) প্রার্থীদের কাঁচি মার্কায় ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করার আহবান জানিযে বলেন,“ জীবনের বিনিময়ে আমরা এই ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পেয়েছি। বিগত ৫৪ বছরে যে সরকারই ক্ষমতায় এসেছে কেউই জনগণের স্বার্থরক্ষা করেনি।মহান মুক্তিযুদ্ধে জনগণের আকাঙ্ক্ষা ছিল শোষণ-বৈষম্যহীন একটা দেশের ।জনগণের সে আকাঙ্ক্ষার সাথে ৫৪ বছরে ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ, বিএনপি, জাতীয়পার্টি, জামাত কেউ পূরণ করেনি। চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আবার আমাদের সামনে একটা সুযোগ এসেছিল রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক রূপান্তরের। সেই আশা আজ ম্রিয়মান। অন্তবর্তী সরকারও জনজীবনের সমস্যা সমাধানে ভূমিকা রাখতে পারেনি। ব্যবসায়ীদের স্বার্থেই সিদ্ধান্ত প্রণয়ন করছে। মব সন্ত্রাস,মাজারে হামলা,ভিন্নমতের উপর আক্রমণ, ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের উপর হামলা সরকার বন্ধ করতে পারেনি। এর মধ্য দিয়ে অভিজ্ঞতা হলো, ফ্যাসিবাদ শুধু কোনো দল আনেনা,এটি পুঁজিবাদী ব্যবস্থার ফলাফল।ফলে ক্ষমতার পালাবদলে ফ্যাসিবাদের বিলোপ হবেনা,এর জন্য ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন। শুধু ভোটের মাধ্যমে এ সংকটের সমাধান হবেনা, এজন্য প্রয়োজন কাজ-মজুরি-শিক্ষা-স্বাস্থ্যের অধিকারসহ জনজীবনের সংকট নিরসনে গণআন্দোলনের শক্তি গড়ে তোলাসদ। গণআন্দোলনই জনগণের অধিকার রক্ষার একমাত্র গ্যারান্টি। সেই গণ-আন্দোলনের শক্তিকে বিকশিত করতেই আমরা নির্বাচনে লড়ছি। আপনারা জনগণের পক্ষে দীর্ঘদিন লড়াই করা,পরীক্ষিত কমরেড আসমা আক্তারকে কাঁচি প্রতীকে ভোট দিয়ে গণান্দোলনের শক্তিকে বিকশিত করুন।”

সমাবেশে দীপা মজুমদার বলেন,“নির্বাচনে জনগণ প্রতিবারই কোন না কোন দলকে জেতায় , কিন্তু জনগণ হারে । কারণ যারা ক্ষমতায় যায় তারা শিল্পপতিদের টাকায় নির্বাচন করে, নির্বাচনকে তারা পূঁজি বিনিয়োগ হিসেবে দেখে। যে কারণে সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের জন্য তারা কাজ করতে পারে না,ক্ষমতায় গিয়ে বিদেশে টাকা পাচার করে ।যে টাকা নির্বাচনে ব্যয় করে সেই টাকা তুলে আনার জন্য দুর্নীতিতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে । মুখে শ্রমিক,কৃষক,মধ্যবিত্ত,নিম্নবিত্তদের কথা বলে কিন্তু সার্থ রক্ষা করে শিল্পপতি,ধনীলোকদের। আর এর বিপরীতে আমাদের দল গরীব,শ্রমজীবী মানুষ,মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তদের পক্ষের দল।আমাদের নির্বাচনের অর্থ দেয় গরীব,শ্রমজীবী মানুষ,মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তরা।তাদের টাকায় আমরা নির্বাচন করি বলে তাদের প্রতি অংগীকার তৈরি হয়।ক্ষমতার বাইরে থেকে একটা রাজনৈতিক দল সংখ্যা গরিষ্ঠ জনগণের অধিকারের পক্ষে কি কি কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে সেটা দিয়েই বুঝতে হবে তারা ক্ষমতায় গেলে কাদের সার্থ রক্ষা করবে। এটা দেখেই আপনারা রাজনৈতিক দলকে নির্বাচিত করবেন। যারা সংখ্যা গরিষ্ঠ জনগণের অধিকার আদায়ের জন্য লড়াই সংগ্রাম করে তাদেরকেই আপনারা ভোটে নির্বাচিত করবেন। আমরা সংসদে গেলে আপনাদের অধিকার বাস্তবায়নের জন্য কাজ করবো। আর সংসদের বাইরে আপনাদের অধিকার আদায়ের জন্য লড়াই করবো। এজন্য আমাকে ভোট দিলে আপনাদের ভোট নষ্ট হবে না। জনগণের অধিকারের দাবিতে বিগত সময়ে রাজপথে সোচ্চার থাকা, জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ-সৎ-নিঃস্বার্থ এবং বাসদ(মার্কসবাদী) মনোনীত প্রার্থী হিসেবে আমাকে জয়যুক্ত করুন। আমাকে ভোট দিয়ে ও ভোটের খরচ যুগিয়ে গণ-আন্দোলনের শক্তিকে বিকশিত করুন।”

RELATED ARTICLES

আরও

Recent Comments