Saturday, April 18, 2026
Homeফিচারজামায়াতে ইসলামীর আমিরের বক্তব্যের প্রতিবাদে বাসদ (মার্কসবাদী) মনোনীত ১০ জন নারী প্রার্থীর...

জামায়াতে ইসলামীর আমিরের বক্তব্যের প্রতিবাদে বাসদ (মার্কসবাদী) মনোনীত ১০ জন নারী প্রার্থীর বিবৃতি

জামায়াতে ইসলামীর আমিরের বক্তব্যের প্রতিবাদে বাসদ (মার্কসবাদী) মনোনীত ১০ জন নারী প্রার্থীর বিবৃতি

গত ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬ তারিখ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের একটি সাক্ষাৎকার তাদের অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশ করে। সাক্ষাৎকারের এক পর্যায়ে ‘কোন নারী জামায়াতে ইসলামীর প্রধান হতে পারে কি না’- এই প্রশ্নের জবাবে জামায়াতের আমীর বলেন, এটা কখনোই সম্ভব নয়। সৃষ্টিগত পার্থক্যের কারণেই নারীরা শীর্ষ নেতৃত্বে আসার অনুপযুক্ত বলে তিনি মনে করেন।

এরপর গত ৩১ জানুয়ারি বিকেলে জামায়াতের আমীরের এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে একটা পোস্ট করা হয়। এই পোস্টের প্রথম অংশে আল-জাজিরার সাক্ষাৎকারের কথার পুনরাবৃত্তি করে শেষে বলা হয়- “…আমরা বিশ্বাস করি যে, আধুনিকতার নামে যখন নারীদের ঘর থেকে বের করা হয়- তখন তারা শোষণ, নৈতিক অবক্ষয় এবং নিরাপত্তাহীনতার মুখোমুখি হয়। এটি পতিতাবৃত্তির আরেকটি রূপ ছাড়া আর কিছুই নয়।” যদিও জামায়াতের পক্ষ থেকে পরবর্তীতে সংবাদ সম্মেলন করে একাউন্টটি হ্যাক করা হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে।

গত ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ তারিখ সকালে জামায়াতের আমীর তার অফিসিয়াল ফেসবুক একাউন্টে একটি বক্তব্য রাখেন। সেখানে তিনি বলেন যে, “…আমাদের ইশতেহার প্রথম দিন থেকেই স্পষ্ট।… আমরা রাজনীতি এবং স্থানীয় সরকারে নারীর নেতৃত্ব, গ্রামীণ নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন, শক্তিশালী আইনি সুরক্ষা এবং সামাজিক সম্মানকে সমর্থন করি।”

জামায়াতের আমীরের আল-জাজিরাকে দেয়া সাক্ষাৎকারের বক্তব্য ও পরবর্তীতে ফেসবুক স্ট্যাটাসে রাখা বক্তব্য একটি আরেকটির বিপরীত। রাজনীতিতে নারী নেতৃত্বে যদি তারা সমর্থনই করেন, এটাই যদি তাদের ইশতেহার হয়, যদি তারা এটাই বিশ্বাস করেন, তাহলে তাদের দলের প্রধান কোন নারী হতে পারেন না অর্থাৎ জৈবিক কারণেই নারীদের শীর্ষ নেতৃত্বে আসা সম্ভব নয়- এই বক্তব্য তিনি আল-জাজিরার সাক্ষাৎকারে কেন রাখলেন। তার মানে কি এই যে, ইশতেহারে যে সকল বক্তব্য তারা রেখেছেন, সেসকল বিষয় তারা নিজেরাই বিশ্বাস করেন না? তারা কি ভোট পাওয়ার জন্য ইশতেহারে যেমন করে বলতে হয়, তেমনটাই বলেছেন? তারা কি ক্ষমতায় গেলে তারা যা বিশ্বাস করেন সেটাই করবেন, বাস্তবে ভোটের জন্য গণতান্ত্রিক সাজার চেষ্টা করছেন? আমরা মনে করি, জামায়াতের আমীরের পরস্পরবিরোধী এই বক্তব্য স্পষ্ট করা উচিত।

শুধু জামায়াতের আমীরের বক্তব্য নয়, জামায়াতের বিভিন্ন নেতা বিভিন্ন সময় নারীদের প্রতি অবমাননাকর বক্তব্য দিয়েছেন। পরবর্তীতে চাপে পড়ে ক্ষমাও চেয়েছেন। সর্বশেষ বরগুনা জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি শামীম আহসান শিবির নির্বাচিত হওয়ার আগে ডাকসু বেশ্যাখানা ছিল বলে মন্তব্য করেন।

জুলাই সনদের প্রস্তাবনা অনুসারে প্রত্যকটি রাজনৈতিক দলের মনোনীত প্রার্থীদের মধ্যে ৫ শতাংশ নারী প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয়ার কথা। এই ওয়াদা জামায়াতও করেছে। আশ্চর্যের বিষয় এই যে, জুলাই সনদ ও সংস্কার নিয়ে তারা ব্যাপকভাবে সরব- কিন্তু তারা একজনও নারী প্রার্থী মনোনয়ন দেননি। বাস্তবে জামায়াতের আমীরের বক্তব্যে বোঝা যায়, তাদের প্রচার করা লিফলেটে আর ইশতেহারে যাই লেখা থাকুক না কেন- তারা বাস্তবে নারীদের সম্পর্কে গণতান্ত্রিক মনোভাব ধারণ করেন না। এই চিন্তা বিজ্ঞানভিত্তিক নয়, ঐতিহাসিকও নয়। ইসলামের ইতিহাসেই তার বক্তব্যের বিরুদ্ধে অনেক নজির আছে, সেটা ইতোমধ্যে অনেকেই দেখিয়েছেন।

আমরা জামায়াতে ইসলামীর আমিরের এই বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। আমরা মনে করি, এই ধরনের চিন্তা কোন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের একটি রাজনৈতিক দলের কাছে কাম্য হতে পারে না। জামায়াতের মতো বৃহৎ একটি দল এই ধরনের চিন্তার দ্বারা পরিচালিত হলে, সেই চিন্তা সমাজে প্রচার করলে- সমাজে নারীদের প্রতি চলমান অমর্যাদা-অবমাননা আরও বৃদ্ধি পাবে।

আমরা নিচে উল্লেখিত বাসদ (মার্কসবাদী)-এর ১০ জন নারী প্রার্থী জামায়াতে ইসলামীর আমিরের বক্তব্যে প্রতিবাদে বিবৃতি প্রদান করছি-

১. রংপুর-৪ (পীরগাছা ও কাউনিয়া উপজেলা) – প্রগতি বর্মণ তমা

২. গাইবান্ধা-৫ (ফুলছড়ি ও সাঘাটা) – রাহেলা খাতুন

৩. জয়পুরহাট-১ (সদর ও পাঁচবিবি উপজেলা) – তৌফিকা দেওয়ান লিজা

৪. ঢাকা-৫ (ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ওয়ার্ড ৪৮-৫০ ও ৬২-৭০) – শাহিনুর আক্তার সুমি

৫. ঢাকা-৭ (ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ওয়ার্ড ২৩-৩৩ ও ৩৫, ৩৬, ৫৬ ও ৫৭) – সীমা দত্ত

৬. গাজীপুর-১ (কালিয়াকৈর, সিটি কর্পোরেশনের ৭-১২ ওয়ার্ড) – তসলিমা আক্তার বিউটি

৭. মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া উপজেলা) – সাদিয়া নোশিন তাসনিম চৌধুরী

৮. নোয়াখালী-৫ (কবিরহাট ও কোম্পানিগঞ্জ উপজেলা) – মুনতাহার প্রীতি

৯. চট্টগ্রাম-১০ (সিটি কর্পোরেশনের ৮, ১১-১৪ ও ২৪-২৬ ওয়ার্ড) – আসমা আক্তার

১০. চট্টগ্রাম-১১ (সিটি কর্পোরেশনের ২৭-৩০ ও ৩৬-৪১ ওয়ার্ড) – দীপা মজুমদার

RELATED ARTICLES

আরও

Recent Comments