সরকারি চাকরিতে মৌখিক পরীক্ষায় নম্বর বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত দলীয়করণ, স্বজনপ্রীতি ও দূর্নীতির পথকে প্রশস্ত করবে
সরকারি চাকরিতে ১১ থেকে ২০ গ্রেডে নিয়োগের ক্ষেত্রে লিখিত পরীক্ষায় নম্বর কমিয়ে মৌখিক পরীক্ষায় ৪০০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করার প্রস্তাবনা দিয়েছে সরকার। পূর্বের মৌখিক পরীক্ষায় ১০ নম্বরের পরিবর্তে নতুন প্রস্তাবিত বিধিমালায় ১১ থেকে ২০ গ্রেডের বিভিন্ন পর্যায়ে ২৫, ৪০, ৫০ নম্বর পর্যন্ত বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসনিক উন্নয়ন সংক্রান্ত সচিব কমিটি।
সরকারের এ প্রস্তাবনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সালমান সিদ্দিকী ও সাধারণ সম্পাদক কমরেড রাফিকুজ্জামান ফরিদ বলেন, “চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় নতুন এ প্রস্তাবনা অযৌক্তিক এবং দুরভিসন্ধিমূলক। সরকারি চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে জনমনে সংশয় বিদ্যমান। পূর্বেও সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় বহু দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে। অধিকন্তু মৌখিক পরীক্ষায় নম্বর বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়োগ পরীক্ষায় দলীয়করণ, স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির পথকে প্রশস্ত করবে।প্রক্সি, প্রযুক্তিনির্ভর জালিয়াতি কিংবা অন্য কোনো অনিয়ম থাকলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। কিন্তু এসবকে অজুহাত করে লিখিত পরীক্ষার গুরুত্ব কমিয়ে ভাইভার নম্বর বাড়ানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য সমাধান নয়।”
নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, “দেশে লক্ষ-লক্ষ তরুণ বেকার। পড়াশোনা শেষ করে তাদেরকে চাকরির পরীক্ষার তীব্র প্রতিযোগিতার মুখে পড়তে হয়। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম আকাঙ্ক্ষা ছিল, একটি বেকারমুক্ত রাষ্ট্র। অথচ গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পরেও বেকারত্ব নিরসনে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ নেই।”
নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে মৌখিক পরীক্ষায় নম্বর বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত বাতিল এবং বেকারত্ব নিরসনে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।
