Saturday, September 12, 2026
Homeফিচারসরকারি চাকরিতে ভাইভা নম্বর বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি বাংলাদেশ যুব ফ্রন্টের

সরকারি চাকরিতে ভাইভা নম্বর বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি বাংলাদেশ যুব ফ্রন্টের

সরকারি চাকরিতে অযৌক্তিকভাবে ভাইভা নম্বর বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি বাংলাদেশ যুব ফ্রন্টের

বাংলাদেশ যুব ফ্রন্টের আহ্বায়ক রাশেদ শাহরিয়ার আজ এক বিবৃতিতে, সরকারি চাকরির ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের নিয়োগে লিখিত পরীক্ষার নম্বর ও পাস নম্বর কমিয়ে মৌখিক পরীক্ষার (ভাইভা) নম্বর বাড়ানোর সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি জানিয়েছেন।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, “প্রস্তাবিত পরিবর্তনে ১১ ও ১২তম গ্রেডে ভাইভার নম্বর ১০ থেকে বাড়িয়ে ৫০ করা হচ্ছে। একইভাবে ১৩ থেকে ১৬তম গ্রেডে ভাইভার নম্বর ১০ থেকে ৪০ এবং ১৭ থেকে ২০তম গ্রেডে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় ২৫ নম্বর করে নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে কয়েকটি গ্রেডে লিখিত পরীক্ষার পাস নম্বরও কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”
তিনি বলেন, ” এই পরিবর্তন নিয়োগ ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ ও মেধাভিত্তিক করার পরিবর্তে বরং অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি, দলীয়করণ ও পছন্দের প্রার্থীকে নিয়োগ দেওয়ার সুযোগ বাড়াবে। লিখিত পরীক্ষা যেখানে তুলনামূলকভাবে নির্দিষ্ট প্রশ্ন, উত্তর ও মূল্যায়ন কাঠামোর মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়, সেখানে ভাইভা স্বভাবতই অনেক বেশি ব্যক্তিনির্ভর ও মূল্যায়নকারীর ওপর নির্ভরশীল। ভাইভা একটি ‘সাবজেক্টিভ’ প্রক্রিয়া এবং এখানে অনিয়মের সুযোগ তুলনামূলকভাবে বেশি।
বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধরে সরকারি চাকরির প্রস্তুতি নেওয়া লাখ লাখ বেকার তরুণের কাছে নিয়োগ পরীক্ষার লিখিত অংশের ফলাফলই তাদের মেধা ও প্রস্তুতির প্রধান প্রতিফলন। লিখিত পরীক্ষায় ভালো করা একজন প্রার্থীকে ভাইভায় বিপুল নম্বরের ব্যবধান তৈরি করে পিছিয়ে দেওয়ার সুযোগ রাখা হলে নিয়োগের ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা ও অবিশ্বাস আরও বাড়বে।
প্রক্সি, প্রযুক্তিনির্ভর জালিয়াতি কিংবা অন্য কোনো অনিয়ম থাকলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। কিন্তু অনিয়মের আশঙ্কাকে অজুহাত বানিয়ে লিখিত পরীক্ষার গুরুত্ব কমিয়ে ভাইভার ওজন বাড়ানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য সমাধান নয়।
তিনি আরও বলেন, “সরকারি চাকরি যোগ্যতা ও মেধার ভিত্তিতে পাওয়া সকলের অধিকার। তাই নিয়োগ পরীক্ষায় এমন কোনো পদ্ধতি গ্রহণ করা যাবে না, যার মাধ্যমে একজন প্রার্থীর মেধা ও প্রস্তুতির মূল্যায়নকে ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের ওপর অধিকতর নির্ভরশীল করে তোলা হয়। ফলে অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত বাতিল করতে হবে। না হলে চাকরি প্রার্থী ও শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়ে আমরা আন্দোলন গড়ে তুলতে পিছপা হবো না”
আমরা সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি—
1. ভাইভার নম্বর অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধির প্রস্তাব অবিলম্বে বাতিল করতে হবে।
2. লিখিত পরীক্ষার গুরুত্ব কমানো যাবে না।
3. নিয়োগ পরীক্ষার প্রতিটি ধাপে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।
4. ভাইভা বোর্ডের কার্যক্রম রেকর্ডিং ও মূল্যায়নের সুস্পষ্ট মানদণ্ড নির্ধারণ করতে হবে।
5. সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে মেধা, যোগ্যতা ও সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।
6. চাকরিপ্রত্যাশী তরুণদের সঙ্গে আলোচনা করে নিয়োগ ব্যবস্থার প্রয়োজনীয় সংস্কার করতে হবে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

আরও

Recent Comments